সাভারের আশুলিয়ায় কিশোরী এক শ্রমিককে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পরে তাদের মনিরুজ্জামান শিকদার ও রাজীব হাসানের আদালতে ওঠানো হলে কিশোর গ্যাং দলনেতা সারুফ ও জাকির হোসেন স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি ডায়মন্ড আলামিনকে পরিবারের পক্ষ থেকে শিশু দাবি করায় আগামী রবিবার তাকে নারী শিশু ৯ এর ট্রাইব্যুনালে শুনানি করা হবে বলে জানিয়েছেন, কোর্ট ইন্সপেক্টর আতিকুল ইসলাম।
এর আগে বুধবার রাতে ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর বড় বোন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে গত বুধবার দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ৪ জনকে আটক করা হলেও মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় রাকিব হোসেন নামের এক কিশোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রিমান্ডের আবেদন করা আসামিরা হলো- আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকার দুই ভাই ফার্নিচার নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক আকরাম হোসেনের ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার সারুফ (১৮), একই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে ডায়মন্ড আলামিন (১৯) ও আনছার আলীর ছেলে জাকির হোসেন (১৮)।
আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় তার বড় বোন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় উদ্ধার করা দুই কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ আগস্ট আশুলিয়ার ভাদাইল গুলিয়ারচক এলাকায় দু:সম্পর্কের চাচা ও তার বন্ধুর সঙ্গে ভাতিজিসহ প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আরও এক কিশোরী বেড়াতে যান। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই যুবককে মারধর করে আটকে রেখে দুই কিশোরীকে পৃথক স্থানে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে সন্ধ্যায় তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন গ্যাং লিডার সারুফের বাবা আকরাম হোসেন।
