করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৭ পিএম

করোনাভাইরাসের কারণে থমকে যাওয়া ঢাকার কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লীর ব্যবসায়ীরা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে এখনো অবস্থান করা করোনাকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলেছে পোশাকপল্লীর বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য। তবে বুড়িগঙ্গা নদীর সিমসন ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়ায় কমে গেছে ক্রেতা। এতে করে আরও বিপাকে পড়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশীয় পোশাকের ৭০ শতাংশ চাহিদা মেটানো কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লী গত ২২ মার্চ বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত মাস থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুনরায় চালু হয়েছে এখানকার পোশাক কারখানা ও শোরুমগুলো। পুঁজি হারিয়ে অনেকটাই বিপাকে এখানকার ব্যবসায়ীরা। নতুন করে আবারও লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবেন এমন স্বপ্ন দেখছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ পোশাকপল্লীতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কারখানা ও ১০ হাজার শোরুম রয়েছে। এখানে কাজ করেন আট লক্ষাধিক শ্রমিক। মূলত ঈদ ঘিরে এখানকার সারা বছরের ব্যবসা হয়। গত ঈদে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সবকিছু বন্ধ থাকায় মোটা অঙ্কের লোকসানের মুখোমুখি হয়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। ব্যাংক লোন, কর্মী খরচ, দোকান ভাড়াসহ নানান খরচ নিয়ে হিমশিম থেতে হচ্ছে তাদের। দোকান ভাড়া মওকুফের দাবি করলেও কাজ হয়নি। এর ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে বুড়িগঙ্গা নদীর সিমসন ঘাট বন্ধ করে দেওয়া। কিছুদিন আগে বিআইডব্লিউটিএ সিমসন ঘাট বন্ধ করে দেওয়ায় ক্রেতা সমাগম অনেক কমে গেছে। এতে করে আরও বিপাকে পড়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পোশাকের পসরা সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষা করছেন দোকানিরা। প্রতিটি দোকানে ঝুলছে নানা বাহারের নানান রঙের দেশীয় পোশাক। তবে ক্রেতা সমাগম খুব একটা নেই। অনেক ব্যবসায়ী ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বিক্রিতে জোর দিচ্ছেন। তবে সেপ্টেম্বর মাসে ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ঘাট বন্ধ করে দেওয়ায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে বলে দাবি করছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

আমির হোসেন নামে এক শার্ট ব্যবসায়ী জানান, ঢাকার বিভিন্ন পাইকাররা সিমসন ঘাট দিয়ে পার হয়ে এখানে আসতেন। এ ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়ায় ভোগান্তির জন্য অন্য ঘাট দিয়ে এখন আসছেন না তারা।

কেরানীগঞ্জ দোকান মালিক ও পোশাক ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ শেখ কাওসার বলেন, কয়েক মাস লকডাউন থাকার পরে আবারও চালু হয়েছে পোশাকপল্লীর ব্যবসা। সব পক্ষের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে বিআইডব্লিউটিএর কাছে ঘাটের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ করছি।

কেরানীগঞ্জ পোশাক মালিক সমিতির সভাপতি স্বাধীন শেখ বলেন, দীর্ঘ বন্ধের পরে আমরা আবারও কারখানা ও শোরুমগুলো চালু করেছি। মাথার ওপর লোনের বোঝা, লসের ধাক্কা, অন্যান্য মানসিক চাপ নিয়েও আমরা সাহস না হারিয়ে আবার ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেছি। তবে সিমসন ঘাটটির ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা না করলে হুমকির মুখে পড়ে যাবে পোশাকপল্লী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত