পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। আজারবাইজানের দ্বিতীয় জনবহুল শহর গানজায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
রাশিয়ার মধ্যস্থতায় শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে ‘মানবিক যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয় বাকু ও ইয়েরেভান।
কিন্তু শনিবার সকাল থেকেই পরস্পরের অবস্থানে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। রাতে দ্বিতীয় জনবহুল আজেরি শহর গানজায় আর্মেনীয় সেনারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে এক বেসামরিক নাগরিক নিহত ও কয়েকজন আহত হয় বলে জানায় দেশটির গণমাধ্যম।
এর আগে শুক্রবার মস্কোয় ১১ ঘণ্টার আলোচনার পর আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া ‘মানবিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে’ বলে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভ।
তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির সময়টাতে আন্তর্জাতিক কমিটি অব রেড ক্রসের মধ্যস্থতায় যুদ্ধে নিহতদের দেহ ও বন্দীদের বিনিময় করবে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। সেই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব বিতর্কিত নাগরনো-কারাবাখ নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদি সমাধানের খোঁজে আলোচনা শুরু করতেও রাজি হয়েছে উভয়পক্ষ।
নাগরনো-কারাবাখ আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের স্বীকৃত ভূখণ্ড হলেও আর্মেনীয় নৃগোষ্ঠীর লোকজন অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। আর আর্মেনিয়া তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে।
গত ১৯৯০ দশকে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটি আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও এই অঞ্চলটিকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি কোনো দেশ। তুমুল যুদ্ধের পর ১৯৯৪ সাল যুদ্ধ বিরতিতে ছিল দেশ দুটি।
বিরোধপূর্ণ নাগরনো-কারাবাখ নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ফের যুদ্ধে জড়ায় আর্মেনিয়া-আজারবাইজান। দুই সপ্তাহ ধরে এই যুদ্ধে অনেক হতাহতের খবর এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে।
