কুষ্টিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে জমি দখলের মামলায় গ্রেপ্তার আমিরুল ইসলাম নামে আরও একজনের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ সময় বহুল আলোচিত কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি রবিউল ইসলামের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। এর আগে রবিবার গভীর রাতে তাকে নিজ বাড়ি সদর উপজেলার আলামপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি)পুলিশের একটি টিম।
গ্রেপ্তার আমিরুল (৫০) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর বালিয়াপাড়া এলাকার মৃত আবুল বিশ্বাসের ছেলে। পরিচয় গোপন করে কুষ্টিয়া শহরের বাসিন্দা এমএম এ ওয়াদুদের নাম পরিচয় ধারণ করে শত কোটি টাকার বাড়ি ও ভূ-সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া চক্রের অন্যতম সদস্য বলে জানায় পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত জানান, সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তার আমিরুলকে কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১ এর বিচারক দেলোয়ার হোসেনের আদালতে সোপর্দ করলে সেখানে তিনি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ সময় আমিরুল তার স্বীকারোক্তিতে আরও নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সাদৃশ্য তথ্যও দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড ও শুনানি শেষে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।
আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিতে গ্রেপ্তার আমিরুল ইসলাম যা বলেছেন, আমি ভাতের হোটেলের ব্যবসা করি। প্রতিবেশী ফারুক সে আসাদুর রহমান বাবু মেম্বারের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেয়। একদিন বাবু মেম্বার আমার সঙ্গে দেখা করে বলে আমার সরকারি ভাতার কার্ড আছে কি না ? আমি বলি নাই। বাবু মেম্বার তখন বলে আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউলের মাধ্যমে কার্ড করে দেব। এরপর আমি বাবু মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে আমাকে কুমারখালী নির্বাচন অফিসে নিয়ে আমার ছবি তোলার ব্যবস্থা করে। এরপর সে আমাকে ১শ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বলে। কিছুদিন পর বাবু মেম্বার আমাকে ও আমাদের গ্রামের আনজিরা, পিনজিরাসহ আরও কয়েকজন মহিলাকে নিয়ে কুষ্টিয়া রেজিস্ট্রি অফিসে যায়। সে আমাকে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বললে আমি উক্ত অফিসের বান্দায় টিপসই দিই। এরপর বাবু মেম্বার আমাদের সকলকে মিষ্টি খেতে ১হাজার করে টাকা দেয়। গত কোরবানি ঈদের ২সপ্তাহ আগে বাবু ও হাসান আমাকে ও পিনজিরাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এর বাড়ি মিল পাড়াতে নিয়ে যায় এবং তার সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর বাবু মেম্বার চেয়ারম্যান রবিউলকে বলে এদের দিয়ে চলবে কি না ? তখন চেয়ারম্যান বলে চলবে। এরপর বাবু বলে তোমাদের বাড়ি ঘর সব হয়ে যাবে আর তোমাদের প্রত্যেকে ১লক্ষ করে টাকা দেব। পরে শুনি আমাদের নিয়ে জালিয়াতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করে কুষ্টিয়া শহরের এমএম এ ওয়াদুদ নামে এক ব্যক্তির জমি কেনা-বেচা ও দখল চেষ্টার অভিযোগ এনে ১২জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২জনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় করা মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি কুষ্টিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন আদালতে।
এ বিষয়ে কথা বলতে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি রবিউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
