মাহমুদউল্লাহর একাদশ আগের দিনই খেলে ফেলেছে আসরের প্রথম ম্যাচ। তিনদলীয় প্রেসিডেন্টস কাপে তাই গতকাল তাদের প্র্যাকটিস না করলেও চলত। আবহাওয়ার বৈরিতায় তা করাও হয়ে ওঠেনি। তবে টুর্নামেন্টে যাদের কাল প্রথম ম্যাচ সেই তামিম ইকবালের দল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুশীলনটা করে নিতে পেরেছে। যেটা তাদের বেশ দরকারও ছিল। কারণ, করোনাভাইরাসে অনাকাক্সিক্ষত বিরতির পর দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট ফেরার আসরে আজ তাদের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ মাহমুদউল্লাহর দল। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দিবারাত্রির ম্যাচটি শুরু দুপুর দেড়টায়।
তামিমদের অবশ্য আরও একটা বিষয় খুব ভাবনায় আছে। এই আসরের তিন দলের মধ্যে সবচেয়ে তারুণ্যনির্ভর দল নাজমুল একাদশ। যার নেতা তরুণ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই তারাই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচকে অন্য আলোয় রাঙিয়ে দিয়েছে। মাত্র ১৯৬ রানে মাহমুদউল্লাহ-মুমিনুল-ইমরুল-লিটনদের অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিল। এরপর নিজেদের অভিজ্ঞদের ব্যর্থতার পর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ রাঙানো তৌহিদ হৃদয় আর ঘরোয়া ক্রিকেটে আলো ছড়ানো ইরফান শুক্কুরের ব্যাটে হারার হুমকির মধ্য থেকে দলকে বের করে এনেছে দারুণ নৈপুণ্যে। আর তাতে বড় হারই উপহার দিয়েছে মাহমুদউল্লাহ একাদশকে।
আজ টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারা মানে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাবে মাহমুদউল্লাহরা। ছোট পরিসরের টুর্নামেন্ট হলেও একেকটি ম্যাচ অনেক বড় অর্থ রাখে পয়েন্ট টেবিলে। এখনই বাঁচা-মরার ম্যাচ বলা না গেলেও অবস্থাটা সেদিকে চলে যেতে পারে তামিমদের কাছে হারলেও।
ওদিকে প্রতিপক্ষ চাপে, এটাই বড় সুবিধা তামিম ইকবালের দলের। অপেক্ষাকৃত তরুণদের কাছে হেরে যাওয়ায় এবং শীর্ষ ব্যাটসম্যানরা ঠিকঠাক পারফর্ম করতে না পারার সমস্যা একদিকে। অন্যদিকে নাজমুলদের সেদিন শুরুতে চাপে ফেলেও পরে উইকেট তুলে নেওয়ার ধারাবাহিকতা দেখাতে না পারার ব্যর্থতায় হার। এই যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তা তামিমের মতো ক্রিকেট মেধার মানুষের নজর থেকে সহজে আড়াল হবে না। তারা জানে, প্রতিপক্ষ যখন চাপে থাকে তখন তাদের বিরাট একটা ধাক্কা শুরুতে দিয়ে দিতে পারলেই চলে। পরে যতই প্রতিরোধের দেয়াল গড়ুক না কেন সেটাও একসময় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়। মোস্তাফিজুর রহমান, খালেদ আহমেদ, তরুণ শরিফুল ইসলামের মতো পেসারের সঙ্গে পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন দলে। লেগ স্পিনারের সুপার সাব অপশন মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদি। ব্যাটিংয়ে তামিম নিজে, মোহাম্মদ মিঠুন, এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের নেতা উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান আকবর আলি ছাড়াও ওই দলের আরও দুই তুর্কি ব্যাটসম্যান।
