বগুড়ার শেরপুরে এক শিশু ধর্ষণের শিকার এবং অপর এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত রাজিব শেখকে (৩০)।
ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় শিশুর পরিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে বিচার চাইতে গেলে চেয়ারম্যান তাদের থানায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে গত ১০ অক্টোবর ধর্ষণ করেন ওই এলাকার রাজীব শেখ। চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ধানক্ষেতে নিয়ে ওই শিশুকে ধর্ষণের সময় একই এলাকার এক নারী বিষয়টি দেখে ফেলে।
সে সময় শিশুকে ফেলে রেখে রাজিব পালিয়ে যান। ওই নারী রক্তাক্ত শিশুটিকে নিয়ে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়, এরপর বিষয়টি জানাজানি না করে তার পরিবার স্থানীয়ভাবে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
গত মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে রাজিব ওই শিশুর বাড়িতে গিয়ে আবারও তাকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার শুরু করে।
চিৎকার শুনে তার মাসহ আশপাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে গেলে তিনি পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই শিশুকে থানা হেফাজতে নেয় এবং শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাজিবকে গ্রেপ্তার করে। সে একই গ্রামের বাবলু শেখের ছেলে।
অপরদিকে একই উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামে মঙ্গলবার রাতে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। ওই শিশুর বাবা-মা মঙ্গলবার তাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ যান। বাড়িতে ওই শিশু ও তার দুই ভাই ছিল। রাতে প্রতিবেশী এক যুবক ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে ঢুকে ওই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে তার দুই ভাই গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টাকারী যুবককে আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ওই যুবক পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে তার বাবা-মা বুধবার সকালে বাড়ি ফিরে বিষয়টির বিচার চাইতে ভবানীপুর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে যান।
ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যেহেতু ধর্ষণের ঘটনায় কোনো সালিস করার বিধান নেই, তাই ওই পরিবারকে বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করতে বলা হয়েছে।
শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে পুলিশ হেফাজতে মেডিকেল টেস্টের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া ধর্ষককে ওই শিশুর মায়ের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভবানীপুরের ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
