মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সৎ বাবার সহায়তায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭ বছরের এক কিশোরী। এ ঘটনায় ওই কিশোরী বাদী হয়ে সৎ বাবা ইমরান হোসেনসহ চারজজনকে আসামি করে কুলাউড়া থানায় বুধবার বিকেলে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ এরই মধ্যে তিন অভিযুক্তকে আটক করেছে।
আটকরা হলেন উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের কুটাগাঁও গ্রামের কাশেম আলী (২৩), গাজীপুর গাংপাড় এলাকার আরজান আলী, গাজীপুরের মাস্টারের দোকান এলাকার রাজেশ সুত্রধর পাপ্পু (২১)।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরীর বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা ইমরান হোসেনকে বিয়ে করেন। ওই ঘরে ইমরানের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তীতে ১০ বছর আগে মা মারা যাওয়ার পর ইমরান হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করে আগের স্ত্রীর (ওই কিশোরীর মা) সন্তানদের ফেলে রেখে নিজের মেয়েকে নিয়ে কুলাউড়ায় চলে আসেন। সৎ বোনের (ইমরানের মেয়ের) ঘরে জন্ম নেয়া ছেলে সন্তানকে দেখতে গত সাত দিন আগে ছোট ভাইকে নিয়ে নোয়খালীর সোনাইমুড়ি থেকে কুলাউড়ায় আসেন ওই কিশোরী।
জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইমরান ওই কিশোরীকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে পৌর শহরের একটি এলাকার বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসেন। পৌরশহরের স্টেশন রোডের এলাকায় নিয়ে এসে তিন হাজার এক শ টাকার বিনিময়ে ওই কিশোরীকে কাশেম আলীর হাতে তুলে দেন ইমরান। সেখান থেকে কাশেম ও তার সহযোগী আরজান এবং পাপ্পু মিলে ওই কিশোরীকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মনছড়া এলাকার বাসিন্দা কাদির মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ঘরের ভেতর ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে কাশেম, আরজান এবং পাপ্পু। রাতে কিশোরীর চিৎকারে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে ধর্ষকদের আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন।
পরে কুলাউড়া থানার এসআই সনক কান্তি দাশ একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত ধর্ষকদের আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় সহায়তাকারী কিশোরীর সৎ পিতা ইমরান হোসেন পলাতক রয়েছে।
এসআই সনক কান্তি দাশ বলেন, ওই কিশোরী বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। রাতেই মামলা রেকর্ড হবে। কিশোরীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।
