রূপপুর বালিশকাণ্ড: ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০৭:১৪ পিএম

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের একটি ভবনের আসবাব সামগ্রী অস্বাভাবিক দামে কেনার অভিযোগে দুর্নীতির মামলার তদন্ত কার্যক্রম ছয় মাসের মধ্যে শেষ করে করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

মামলার অন্যতম আসামি প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বরখাস্ত) শফিকুল ইসলামের জামিন শুনানিকালে সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এ আদেশ আসে।

আদালত শফিকুলকে তিন মামলায় জামিন না দিয়ে এ বিষয়ে এর আগে দেওয়া রুল ৬ মাসের জন্য স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখে। একই সঙ্গে ৬ মাসের মধ্যে মামলার তদন্তকাজ শেষ করে বিচারিক আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়। এর আগে গত ১৭ আগস্ট শফিকুলের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবিন রাব্বানী দীপা, জামিন আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন সাঈদ আহমেদ রাজা।

অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় তিনটি মামলায় জামিনের আবেদন করেছিলেন শফিকুল। আদালত তিনটিতে রুল দিয়েছিল। আজ হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে রুল ছয় মাসের জন্য স্ট্যান্ডওভার রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাগুলোর তদন্তকাজ ছয় মাসের মধ্যে শেষ করতে বলেছে হাইকোর্ট। দুদককে হাইকোর্টের এ আদেশটি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের গ্রীনসিটি আবাসন পল্লীর একটি ভবনের আসবাব, বালিশসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ও তা ভবনে তোলায় অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে গত বছরের ১৬ মে দৈনিক ‘দেশ রূপান্তর’ পত্রিকায় ‘কেনা-তোলায় এত ঝাঁজ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ওই ভবনের আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রী কেনায় মারাত্মক দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। এর মধ্যে একেকটি বালিশের দাম দেখানো হয় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। একেকটি বালিশ ভবনে তুলতে খরচ দেখানো হয় ৭৬০ টাকা করে। এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। আলোচিত এ ঘটনায় দুদকের পক্ষে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পাবনায় মামলা দায়ের হয়। প্রকল্পের ১৩ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত