রংপুর সদরের ৩ ইউনিয়ন নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০৮:২৬ পিএম

মঙ্গলবার রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর, চন্দনপাট ও সদ্য পুষ্করিণী ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। 

কোনো প্রার্থীই আচরণবিধি মানছেন না। কালো টাকার ছড়াছড়ি চলছে বলেও ব্যাপক  অভিযোগ রয়েছে। ফলে নির্বাচনে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় বিজিবি, র‌্যাব ও আর্মড পুলিশ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার।

রংপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিন ইউনিয়নে মোট ১৯০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে  চেয়ারম্যান পদে ১৬, সাধারণ সদস্য পদে ১২৭ জন ও সংরক্ষিত নারী  সদস্য পদে ৪৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর মধ্যে হরিদেবপুর ইউনিয়নে পাঁচজন রয়েছেন। তারা হলেন জাতীয় পার্টির মফিজল ইসলাম জর্দা, আওয়ামী লীগের একরামুল হক, ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আবুল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন ও শাহিনুর আলম। 

চন্দনপাট ইউনিয়নে প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন লিটন, আওয়ামী লীগের আমিনুর রহমান, বিএনপির মেরাজুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী লিটন চৌধুরী ও সহিদুর রহমান। 

সদ্য পুষ্করিণী ইউনিয়নের পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির ফজলুল হক ফুলবাবু, আওয়ামী লীগের মকছেদুর রহমান দুলু ব্যাপারী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা, মাহাবুল হক ও কৃষ্ণচন্দ্র বর্মণ।

এর মধ্যে সোহেল রানা ও  কৃসনো চন্দ্র স্বাধীন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ গ্রহণ করায় তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার কারণে তাদের দুজনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।                          

সদ্য পুষ্করিণী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মকছেদুর রহমানের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের  বহিষ্কৃত  প্রার্থী সোহেল রানা ভোট সেন্টারে গন্ডগোল করার চেষ্টায় আছে, সঙ্গে ব্যাপক কালো টাকা ছড়িয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের টাকা বিলি করার অভিযোগও করেছেন তিনি। 

তবে সোহেল রানা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাজানো ও মিথ্যা বলে দাবি করে উল্টো আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।। 

একই সঙ্গে সোহেল রানা তার সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি-ধুমকি দেওয়াসহ মোটরসাইকেল মহড়া ও রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিমা জামান ববিকে নিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন। অন্যদিকে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী কৃষ্ণচন্দ্র বর্মণ আওয়ামী লীগ ও প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন।

একই অভিযোগ রয়েছে চন্দনপাট ও হরিদেবপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। অপর দিকে চন্দন পাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রুহুল আমিন লিটন কালো টাকা ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আনেন। এখানে জাতীয় পার্টির  প্রার্থী রুহুল আমিন লিটন জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশা বাদী  বলে দেশ রূপান্তর কে জানান। অন্যদিকে হরিদেব পুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান  ইকবাল হোসেন জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দেশ রূপান্তর কে বলেন  স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি জয়লাভ করবেন।                                      

সার্বিক বিষয় জানতে যোগাযোগ করা হলে রংপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার রেজাউল করিম বলেছেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বিজিবি, র‌্যাব, আর্মড পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

রংপুর সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৮১৪৬৪ এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৬ হাজার ও মহিলা ভোটার ৩৫ হাজার। আর ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৩৯, ভোটের বুথ ২৩৮ টি।              

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত