পিরোজপুরে নির্মাণাধীন অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু প্রকল্পে কর্মরত চীনের নাগরিক লাও ফান ওরফে ফান ইয়াংজুন (৫৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম এ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘চাকরিচ্যুত করার পর মজুরি থেকে ৫০০ টাকা কেটে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ এক শ্রমিক অন্য শ্রমিকের সহায়তায় চীনা নাগরিককে হত্যা করে।’
গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় পিরোজপুরের কুমিরমারার চায়না ব্যারাক থেকে কর্মচারীদের বেতনের টাকা নিয়ে সেতু এলাকায় যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা ইয়াংজুনকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই রাতেই সেতুর সিকিউরিটি ইনচার্জ কাও চিয়েন হুয়া অজ্ঞাতদের নামে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে সেতুর শ্রমিক হোসেন সেখ (১৯) ও সাব্বির আহম্মেদ সেখকে (২০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হত্যার দায় স্বীকার করে গত রবিবার আদালতে জবানবন্দি দেয়।
ডিআইজি শফিকুল জানান, ঘটনার ছয় দিনের মধ্যে মূল আসামি দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে স্থানীয় শ্রমিক সাব্বির সেখের সুপারিশে গত মে মাসে প্রকল্পে কাজ পায় হোসেন শেখ। তবে কাজে পারদর্শী না হওয়ায় ১৪ দিন পর তাকে বাদ দেন চীনা নাগরিক ইয়াংজুন। হোসেন শেখ যাওয়ার সময় ব্যবহৃত একটি হেলমেট নিয়ে যায়। পরবর্তী মাসে মজুরি নিতে এলে ইয়াংজুন হেলমেট বাবদ তার মজুরি থেকে ৫০০ টাকা কেটে রাখেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হোসেন শেখ সাব্বিরের সঙ্গে মিলে ইয়াংজুন থেকে টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।
গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইয়াংজুন শ্রমিকদের বেতন দিতে কয়েকটি ব্যাগে করে ২ লাখ ৫৩ হাজার ২৩০ টাকা নিয়ে বাইসাইকেলে বাসস্থান থেকে মূল সেতুর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ওঁৎ পেতে থাকা হোসেন সেখ টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে ইয়াংজুন বাধা দেন। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় হোসেন। বাড়ি গিয়ে সে কাদামাখা টাকা, ব্যাগ ও জামাকাপড় ধুয়ে শুকিয়ে নেয় এবং ফোনে সাব্বিরকে বিষয়টি জানায়।
গত ১২ অক্টোবর পুলিশ সাব্বিরকে আটক করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। এরপর ওইদিন রাতেই হোসেন শেখকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে, বাড়ির খাটের নিচ থেকে ছিনতাইকৃত ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানান ডিআইজি শফিকুল।
সংবাদ সম্মেলনে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী শাহনেওয়াজ, সদর সার্কেল খায়রুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
