টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত বরগুনার নিম্নাঞ্চল

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪৯ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় টানা বর্ষণ ও উচ্চ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। জেলার ৬টি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলের খেত, ভেসে গেছে মাছের ঘের। বরগুনা, বেতাগী, পাথরঘাটা ও আমতলী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয়ের বৃষ্টি পরিমাপক শাখা থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬০ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ছাড়া জোয়ারের উচ্চতা পরিমাপক শাখা থেকে জানা গেছে, শুক্রবার ১২ টা পর্যন্ত বিষখালী, বুড়িশ্বর (পায়রা) ও বলেশ্বর নদীতে জোয়ারের পানি বিপৎসীমার ৩ ফিট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বরগুনা জেলায় বিভিন্ন বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত আবাসন ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এ ছাড়া বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত কয়েক সহস্রাধিক বসতঘর বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা পৌর শহরের চরকলোনি, কলেজ সড়ক, কলেজ ব্রাঞ্চ সড়ক, ব্যাংক কলোনি, আমতলা পাড়, বাজার সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক, গোলাম সরোয়ার সড়ক, পশু হাসপাতাল সড়কে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দু'দিনের বেশি অব্যাহত ভারী বর্ষণে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সাধারণ জনজীবনে বিপর্যায় নেমে এসেছে।

বুধবার ভোর থেকে জেলা সদর ও পাথরঘাটা, বেতাগী, বামনা উপজেলায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করলেও শুক্রবার সকাল থেকে পুরোপুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।  

বরগুনা পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা জয় বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে আমরা পানিবন্দী অবস্থায় আছি। ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে স্থবিরতা। সকাল থেকে বিদ্যুতের দেখা নেই।

এদিকে বরগুনা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবন্দী মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা ও শুকনো খাবার বিতরণ শুরু করেছেন।

মেয়র শাহাদত হোসেন বলেন, অনেকে বসত বাড়ি বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়ায় তাদেরকে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নিজ নিজ এলাকার ক্ষয়-ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য বলেছি। শুকনা খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে, চাহিদা মতো সরবরাহ করা যাবে ইনশা আল্লাহ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত