ছাত্রলীগ নেতার ভাগনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা না নেয়ার অভিযোগ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩১ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে নতুন আতঙ্কের নাম সিএনজি অটোরিকশা চালক রনি আহমদ (২১)। এবার বখাটে রনির বিরুদ্ধে এক স্কুল পড়ুয়া কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ পাওয়া যায়, স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতার ভাগনে রনির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশ মামলা নেয়নি। উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে করা মামলা নিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় নিরীহ মানুষজন তার হাতে জিম্মি। দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে কেউই নিরাপদ নয় তার হাতে। তার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অনেকেই রক্তাক্ত হয়েছে।  

বিভিন্ন সময় অসংখ্য অভিযোগ উঠলেও কেউই তার বিরুদ্ধে আইনি আশ্রয় নিতে সাহস দেখাননি। কেউ সাহস করে থানায় অভিযোগ করলেও চাপে পড়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিটমাট করতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবেই দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে ওঠে রনি।

স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, বেপরোয়া হয়ে ওঠা রনির এক নিকট আত্মীয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের স্থানীয় নেতা হওয়ায় তার অপরাধমূলক এসব ঘটনা নজরে আসেনি প্রশাসনের।

গত ২ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে গ্রামের একজনের বসতঘরের বাঁশের বেড়া ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে রনি। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে গেলে রনি পালানোর সময় হাতের কাছে থাকা কাঁচি দিয়ে রনিকে আঘাত করে কিশোরী। পরে প্রতিবেশীরা রনিকে আটক করেন।

খবর পেয়ে রাতেই ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিয়ে চিকিৎসার জন্য রনিকে তার বড় ভাই জসিমের জিম্মায় দেয়া হয়। পরে এ ঘটনায় ৪ অক্টোবর হামলার অভিযোগ এনে উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন রনির মামা দেলোয়ার হোসেন।

আলাপকালে ঘটনার বর্ণনা দেয় স্কুল পড়ুয়া সেই কিশোরী। কিশোরীর বাবা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ অভিযোগটি আমলে না নিয়ে প্রতিপক্ষের অভিযোগ নথিভুক্ত করে।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়েটির কথা শুনলে বুক ফেটে যায়। আমি বাবা হয়ে তার নিরাপত্তা দিতে পারছি না। দেশে আইন কি শুধু বড়লোকের জন্য? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, হয় আমাদের নিরাপত্তা দেন, না হয় সবাইকে মেরে ফেলেন।

কমলগঞ্জ থানা-পুলিশ মেয়েটির বাবার অভিযোগ না নেয়ায় গত ১৩ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মৌলভীবাজার আদালতে তিনি পিটিশন মামলা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বশির বক্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত কয়েক মাসে ১৫-২০টি অপরাধ ঘটিয়েছে রনি। কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তার হিংস্রতার শিকার হয়েছেন প্রতিবাদকারীরা।

জানা যায়, রনির বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও সে বেড়ে উঠেছে ঢাকায়। গুঞ্জন রয়েছে ঢাকায় টোকাই হিসেবে জীবনযাপন করা রনি সেখানে নানা অপরাধে জড়িত ছিল। এক সময় পুলিশের ভয়ে রনি চলে আসে নানাবাড়ি কমলগঞ্জের আদমপুর ইউপির উত্তরভাগ গ্রামে। তার বাবা বিল্লাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ রয়েছেন। তার মা জর্ডান প্রবাসী হওয়ায় নানা বাড়ি উত্তরভাগ (নৈনারপাড় বাজার এলাকায়) সে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে।

স্থানীয়রা জানান, মাস দুই-এক পূর্বে সিএনজি গাড়ি দিয়ে স্থানীয় সিএনজি স্ট্যান্ডের প্রভাবশালী এক নেতার মেয়েকে তুলে নেয়ার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয় রনি। এছাড়া জুয়া খেলাসহ মাদক নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা কথা শোনা গেলেও কেউ এ বিষয়ে বলতে রাজি হননি।

তবে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে রাশেদ নামে এক ড্রাইভার ও আমজাদ নামের একজনকে কুপিয়ে আহত করার কথা জানালেন কয়েকজন গ্রামবাসী।  

স্থানীয়দের অভিযোগ, রনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তার এক মামার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে। তবে সে কথা মানতে রাজি নন রনির মামা আদমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি সবুজ মিয়া। তিনি বলেন, এগুলো সবই অপপ্রচার। রনির আরেক মামা দেলোয়ার হোসেন বলেন, রনি একটু রাগী, তবে বেয়াদব নয়। মারধর, শ্রমিক নেতার মেয়েকে তুলে নেয়া এবং কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে দেলোয়ার বলেন, এক হাতে কখনো তালি বাজে না।

কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি পক্ষ অভিযোগ দেয়ায় তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। থানা-পুলিশ অভিযোগ নেয়নি অভিযোগটি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওরা অভিযোগ নিয়ে হয়তো থানায়ই আসেনি। তবে রনির বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত