করোনা পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে প্রমোশন বা পদোন্নতির বিষয়টি এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে বলা চলে। মহামারিতে অনেকের যেমন চাকরি চলে গেছে বা বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেকে চিন্তিত প্রমোশন বা পদোন্নতি নিয়ে।
এ ক্ষেত্রে আপনি যদি বাড়ি থেকে কাজ করেন এবং পদোন্নতি পেতে চান তবে আপনার নিজেকেই উদ্যোগী হতে হবে। যদি আপনার কয়েকজন সহকর্মী এখনই অফিসে থেকে কাজ করেন তাহলে আপনার প্রচেষ্টায় আরও জোর লাগবে।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঘরে বসে কাজ করা অবস্থাতেই যদি আপনি আপনার পদবি এগিয়ে নিতে চান তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে বেশ চ্যালেঞ্জিং। এতে বসদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিষয়টি উঠে এসেছে বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে।
যেহেতু ঘরে বসে কাজ করছেন ফলে আপনি আপনার বসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না, প্রতিদিনের মিটিংয়ে তার সঙ্গে দেখা হচ্ছে না বা করিডরে দেখা হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।
আবার বসরা মনে করেন, ঘরে বসে কাজ করতে গিয়ে আপনি নিশ্চয়ই বাচ্চাদের সঙ্গে খেলছেন অথবা মজাদার রান্নাবান্না করছেন।
ওয়ার্ক ফাউন্ডেশন থিংক ট্যাংকের জ্যেষ্ঠ পলিসি উপদেষ্টা মেলানিয়া উইলকেস বলেন, ‘বাড়ি থেকে যারা কঠোর পরিশ্রম করছেন তাদের উচিত বসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা।’
এ ক্ষেত্রে বসদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে কোন কোন কর্মচারী বাসা থেকে কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং ভালোভাবে কাজ করছেন।
আইনি সংস্থা পিনসেন্ট ম্যাসনসের অংশীদার অ্যান সামন বলেন, ‘একজন ম্যানেজার হিসেবে, কর্মীরা ঘরে বসে ভালোভাবে কাজ করছে কিনা তা আমি কীভাবে বলব?’
তিনি বলেন, ‘ম্যানেজারদের আরও তথ্য পাওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে, যেন তারা কীভাবে সব চলছে, কে কী করছে, জানতে পারেন।’
যদি কর্মচারীরা হঠাৎ করে আবিষ্কার করেন যে যারা শুধু অফিসে বসে কাজ করেছেন তারাই সমস্ত পদোন্নতি পাচ্ছেন এবং যারা বাড়িতে থেকে কাজ করেছেন তারা কেউ পাননি, তাহলে বস হিসেবে আপনার বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ উঠতে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও জননীতি বিভাগের অধ্যাপক অ্যান ডেভিস বলেন, ‘ঘরে বসে কাজ করা কর্মীরা কতটা ভালো পারফর্ম করছেন সেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা বসের দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘যদি আপনার অফিসে এমন লোক থাকেন যারা বাড়িতে থেকে কাজ করছেন, তাহলে আপনি তাদের কাজ কিভাবে নিরীক্ষণ করবেন, সেটা ঠিক করুন। এবং তারা কীভাবে কাজ করছে তা মূল্যায়নের কিছু মানদণ্ড থাকতে হবে।’
এ গবেষক আরও বলেন, ‘আপনি যখন কাউকে পদোন্নতি দেবেন তখন কেউ যদি আপনার বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ আনে। আপনি যেন আপনাকে ন্যায্য অবস্থান প্রমাণ করতে পারেন।’
বসদের মনে রাখতে হবে যে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য তারা সেরা কর্মচারীকেই খুঁজছেন। কোন কর্মীরা সত্যিকারে চেষ্টা করে যাচ্ছে, কঠোর পরিশ্রম করছে তাদের চিহ্নিত করার জন্য ম্যানেজারদেরও খাটতে হবে।
অ্যালায়েন্স ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুলের সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক শ্যারন ক্লার্ক বলেন, ‘যদি আপনি ম্যানেজার হিসেবে সত্যিই আপনার প্রতিষ্ঠানে মধ্যে কোনও পরিবর্তন আনতে চান, তবে অফিসের কাজে অবদান রাখছে এমন প্রতিভাবানদের খুঁজে বের করার সক্ষমতা আপনার থাকতে হবে।’
