‘আপনাদের আইডল হিরো আলম’: উজ্জ্বলের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০৬ পিএম

২৩ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। চলচ্চিত্রটি সিনেপ্লক্সগুলোতে মুক্তি পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটির বেশ প্রশংসাও পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে ছবিটির প্রচার-প্রচারণা কম হওয়ায় গণমাধ্যমের বিনোদন সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে উজ্জ্বল একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার মন্তব্য ঘিরে চলছে বিতর্ক।

ঊজ্জ্বল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, ‘‘ভেবেছিলাম নিজের সিনেমা নিয়ে টু শব্দটিও করবো না । কিন্তু যখন দেখলাম আমাদের মূল সমস্যাগুলো চোখের সামনে চলে আসছে, তখন মনে হলো দু’টো কথা না বললে স্বস্তি হচ্ছে না!  গতকাল বসুন্ধরা সিটি সিনেপ্লেক্সের তিনটি শোতেই আমি উপস্থিত ছিলাম। প্রথম শো ছিল বেলা ১ টায় ঠিক জুম্মার নামাজের সময়, এই সময়টাতে খুবই যৌক্তিক কারণে সামনের সারিতে কিছু দর্শক কম ছিল। কিন্তু পরের দু’টো শো ছিল হাউসফুল, অনেকে টিকেট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গিয়েছেন। আজকেও একই ঘটনা, টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না! নিজের সিনেমার রিভিউ নিজেই একটু দেই। হলভর্তি দর্শক। একটি শো হচ্ছে হল ১ এ, আরেকটি হল-৩ তে । দুপুর ১ টার শোতে দর্শক যে যে দৃশ্য বা সংলাপে হেসেছে বা কেঁদেছে, ৩.৩৫ এর শো এবং ৬টা ৫০ এর শোতেও ঠিক সেই একই জায়গাগুলোতে হেসেছে বা কেঁদেছে ! তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়ালো? দর্শক এর সাথে পরিচালক ঠিকঠাক Communicate করতে পেরেছে। এর আগে আমি হলে বসে সিনেমা দেখতে গিয়ে বহুবার বিরক্ত হয়েছি, দর্শক হয় ফোন ঘাটতে ঘাটতে সিনেমা দেখে অথবা পাশের জনের সাথে ফিসিরফাসুর করে! কিন্তু দর্শক ঊনপঞ্চাশ বাতাস দেখেছে পিনপতন নীরবতায়।

কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ করলাম দেশের দু-একটা পত্রিকা ছাড়া আর কেউই সেটা ফলাও করে প্রচার করছে না! এই পত্রিকাগুলোই হিরো আলমের যেকোনো খবর দফায় প্রকাশ এবং প্রচার করেছে! উপরন্তু একটি নিউজ পোর্টাল নিউজ করেছে, ‘তেমন দর্শক সমাগম নাই, কোন কাজ নাই তাই দু-একজন ঊনপঞ্চাশ বাতাস দেখেছে।’

নিউজ দিতে চান না ঠিক আছে, অসত্য খবর কেন দেন? তাহলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ক্যামেরাতে হলভর্তি যে দর্শক ধরা পড়েছে, সেসব কী মিথ্যা? আমাদের কাছে দর্শকের যেসব উপচে পড়া ভিড়ের ছবি এবং ভিডিও আছে সেসব কি চাঁদের দেশ থেকে এসেছে?

আপনাদের আইডল হিরো আলম, তা তো চোখে আঙুল দিয়ে বহুবার দেখিয়েছেন, কিন্তু একটা সুস্থ ধারার তুমুল গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া সিনেমার সাফল্যের পেছনে কেন লেগে পড়তে হলো! মানুষ হয়ে জন্মেছিলেন, দালাল হয়ে মারা যাবেন- জীবনের এই লক্ষ নির্ধারণ যদি করেই থাকেন, আপনার জন্য সমবেদনা।’’

এদিকে উজ্জ্বলের এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনা। উজ্জ্বলের স্ট্যাটাসে সাংবাদিক অনিন্দ্য মামুন মন্তব্য করেছেন, ‘আপনার এমন স্ট্যাটাস আমাদেরও হতাশ করলো উজ্জ্বল ভাই। হিরো আলমদের সাংবাদিকরা কখনও আইডল মানেন না। তারা সবসময় ভালো সিনেমার সঙ্গেই থাকেন। পাশাপাশি নতুন যে ছবি মুক্তি পায় সেটা নিয়েও তাদের নিউজ করতে হয়। সেটা হিরো আলমের হোক বা শাকিব খানের। সব হাউজের নিজস্ব একটা পলিসি থাকে। এই যেমন আপনার সিনেমারও নিজস্ব একটা প্রমোশনাল পলিসি আছে।’

সাংবাদিক নিপু বড়ুয়া মন্তব্য করেছেন, ‘ঢালাওভাবে মন্তব্য করাকে সমর্থন করছি না। প্রোডাক্টের কোয়ালিটি থাকলে আওয়াজ আসবেই। দুইদিনে হতাশ হইলে সামনের পথ চলবেন কেমনে।’

অনেকেই ঊজ্বলের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। সাংবাদিক এ মিজান লিখেছেন, ‘ঢালাওভাবে আপনি সবাইকে দালাল বলছেন। এটা আপনার চরম হতাশার বহিঃপ্রকাশ। আপনার এমন ভাষার ব্যবহার আপনাকে ভেজালযুক্ত মানসিকতার মানুষ হিসেবে প্রমাণ করলো। আপনার এমন বাজে কথার তীব্র নিন্দা জানাই। আপনারা সিনেমা বানিয়ে সিনেমাশিল্পের উন্নয়ন করতে আসেননি, এখানে এসেছেন নিজেকে নেগেটিভ পদ্ধতিতে হলেও আলোচনায় রাখতে...আবারও নিন্দা জানাই...’’

সাংবাদিক লিমন আহমেদ সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘হিরো আলম আজকাল একটা করাতে পরিণত হয়েছে। এর সমালোচনা করলে বলে বর্ণবাদ। না করলে বলে স্বস্তা। সে যাক, হিরো আলমকে নিয়ে মূলধারার বা শীর্ষে থাকা কোনো গণমাধ্যমকে অযথা গায়ে পড়া প্রচারে গা ভাসাতে দেখিনি। দুই একটি ব্যতিক্রম থাকলে সেটা গর্হিত অপরাধ নয়। তারটাও সিনেমা। সেন্সর অনুমতি দিয়েছে। কথা হলো নিজের হতাশা কাটাতে গিয়ে হিরো আলমের সঙ্গে তুলনায় গিয়ে নিজেকে কেন ছোট করছেন? হিরো আলমের সিনেমা নিয়ে যেসব নেগেটিভ রিভিউ এসেছে গণমাধ্যমে আপনার বা আপনার সিনেমা নিয়ে এর সিঁকিভাগ লিখলেও জাস্ট অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকবেন কয়েকদিন। কারণ এদেশে সুশীলরা বদলে গেছে। তারা এখন তেলে চলে, তেলে বাঁচে, তেলে ঘুমায়। সমালোচনা তাদের আজকাল সয় না একদমই। কোনো সিনেমা বানাতে যাওয়ার আগে সিনেমার প্রমোশন করা শেখা বেশি জরুরি৷ বিনোদন সাংবাদিকদের একটা তালিকা তৈরি করে আগে হাতে নেয়া জরুরি। অন্তত নিজে একবার তাদের সঙ্গে কথা বলে সম্পর্কটা তৈরি করে নেবেন বা একটা নতুন যাত্রা শুরু করবেন। তাকে তথ্য দেয়ার উপায়টা ঠিক করে নেবেন। দরকার হয় ম্যানেজার নিয়োগ দেবেন মিডিয়ার জন্য। এদেশে সিনেমাবান্ধব সাংবাদিকদের রাজত্ব। এখানে সিনেমার নিউজ বা প্রচারের জন্য টাকা লাগে না। সৌজন্যবোধ লাগে, আন্তরিকতা লাগে, সিনেমার কর্মী হিসেবে সেই পেশাদারিত্ব লাগে। আপনি এদেশের জহির রায়হানও না হুমায়ুন আহমেদও না আবার অনন্ত জলিল বা শাকিব খানও না যে গায়ে পড়ে আপনাকে নিয়ে লোকে আগ্রহ দেখাবে। যদি আপনার তেমন আত্মবিশ্বাস থেকেই থাকে তবে আপনাকে লাল সেলাম এবং অভিনন্দন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত