বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন তার দলের বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে ছয়টি যুক্তি দিয়েছেন। রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেজে এসব যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।
ইশরাক হোসেন লেখেন-
ভুয়া তামাশার নির্বাচনে কেন বিএনপি অংশগ্রহণ করে এবং প্রচার প্রচারণায় সরগরম হয়?
১. নির্বাচন অংশগ্রহণ করলে বৈধতা দেওয়া হয় না। এটি যারা বলে তারা আইনি বিষয়টা অবগত নন। বিএনপি অংশগ্রহণ না করলেও সেই নির্বাচন বাতিল যোগ্য হওয়ার কোন বিধি বিধান নেই কারণ অন্য দল অথবা ডামি ক্যান্ডিডেট অংশগ্রহণ করলে, 'নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে' সেই শর্তটি পূরন হয়ে যায়।
বিএনপি অংশগ্রহণ করে পরবর্তীতে কারচুপির প্রমাণাদিসহ মামলা করতে পারে। তাতে করে কোনো একদিন স্বাধীন বিচার হলে ওই সমস্ত নির্বাচন বাতিল হয়ে যাবে।
প্রতিটি নির্বাচন অংশগ্রহণ করে প্রমান সহ মামলা করলে বরঞ্চ বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। অংশগ্রহণ না করলে বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।
২. নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি এলাকায় একজন প্রার্থী যে গণসংযোগ চালায়, তাতে তার পূর্ব পরিচিতি তৈরি হয়। ভবিষ্যতে অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তখন ভালো প্রচারণা চালানো প্রার্থীরা একটি সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে। আর ব্যর্থ প্রচারণা চালানো প্রার্থীরা চিহ্নিত হয়ে যাবে। ফলে নমিনেশন দেয়ার সময় বোর্ড যাচাই-বাছাইয়ের এর একটি ভিত্তি পাবে।
৩. নির্বাচনী এলাকায় প্রচুর পরিমাণে সাংগঠনিক তৎপরতা চলে এবং বেশ কিছু পরীক্ষিত নেতাকর্মী চিহ্নিত/সৃষ্টি হয়। যারা ঝুঁকি নেওয়ার মাধ্যমে তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করে। ফলে সাহসী, অটুট, কমিটেড কিছু নেতাকর্মী ছেঁকে বের হয়।
৪. অলিতে গলিতে জোরালো স্লোগান চলে
খালেদা জিয়ার সালাম নিন।
ধানের শীষে ভোট দিন।
তারেক রহমানের সালাম নিন।
ধানের শীষে ভোট দিন।
জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো।
দীর্ঘকাল নির্বাচনের বাইরে থাকলে নতুন প্রজন্ম ও নাগরিক ভোটাররা বিএনপি'র অস্তিত্ব সম্পর্কে না ভুলে যাওয়ার নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
৫. দীর্ঘমেয়াদে জাতীয়তাবাদী দল অপ্রাসঙ্গিক না হয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে। আমাদের এই ভূখন্ডে অনেক ঐতিহ্যবাহি ও পুরনো রাজনৈতিক দল বিলীন হয়ে গিয়েছে সময়ের সাথে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় না থাকার ফলে।
৬. অনেকে বলে থাকে নির্বাচনের সময় নষ্ট না করে আন্দোলন করার। নির্বাচন করলে কোন ভাবেই আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়না। বরঞ্চ ছায়া সংসদ সদস্য অথবা অন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিএনপি প্রার্থীদের গণনা করে স্থানীয় প্রশাসন।
কেন অংশগ্রহণ করা উচিত না?
১. এই প্রশ্নের উত্তর সকলেরই জানা আছে বলে আমি মনে করতে চাই।
পরিশেষে, কৌশলীভাবে অংশগ্রহণ করে বরঞ্চ আন্দোলনের সহায়ক ভূমিকা হিসেবে কাজ করতে পারে।
আর অংশগ্রহণ না করলেও সরকারের কিছু যায় আসে না। যদি না আন্দোলনে সফল করা যায়।
একান্তই নিজস্ব বিশ্লেষণ।
