যেসব প্রাপ্তি বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৯ পিএম

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ দিয়ে করোনা বিরতির পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট ফিরেছে দেশে। রবিবার মাহমুদউল্লাহ একাদশের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দলের এই আসর। ঘরোয়া প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট হলেও এই আসরে প্রাপ্তি অনেক।

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি নিয়ে এই প্রতিবেদন-

অবশেষে ক্রিকেট ফেরা

অক্টোবর-নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সিরিজটি দ্বিতীয়বারের মতো স্থগিত হয়ে যাওয়ায় নিজেদের মধ্যে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ওয়ানডে টুর্নামেন্টটির নাম দেওয়া হয় ‘বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ’। মূলত এই আসর দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২০-২১ মৌসুম।

মোট ৪৬জন খেলোয়াড় এই আসরে খেলেছেন। যদিও প্রথমসারির অনেক খেলোয়াড়ই এই আসরে খেলার সুযোগ পায়নি। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এরই মধ্যে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ঘোষণা দিয়েছেন। পাঁচ দলের যে টুর্নামেন্টে আরো বেশি খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পাবে। তবে করোনার কারণে স্থগিত থাকা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ এখনো অনিশ্চিত।

পেসারদের ফিটনেসে উন্নতি

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বরাবরই স্পিনারদের দাপট দেখা যায়। তবে প্রেসিডেন্টস কাপে দাপট দেখিয়েছেন পেসাররা। রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ আলাদা করে নজর কেড়েছেন। বলতে গেলে জাতীয় দলের এই দুই পেসারের নিজেদের ফিরে পাওয়াটা এই আসরের বড় প্রাপ্তি।

৫ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে রুবেল হোসেন আসরের সেরা বোলার হয়েছেন। পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন ৪ ম্যাচে নিয়েছেন ১২ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ৫ ম্যাচে ৭ উইকেট নিলেও ছিলেন দারুণ ধারাবাহিক। আসরের সেরা সাত বোলারই পেসার। আর সেরা ১০ জনের মধ্যে পেসার আটজন।

ফাইনালে ৫ উইকেট নিয়ে সুমন খান দারুণ আলোচিত হয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান, আল-আমিন হোসেন, শরিফুল ইসলাম, ইবাদত হোসেনরাও ছিলেন আলোচনায়। করোনা বিরতিতে দীর্ঘদিন খেলা বন্ধ থাকায় সব ক্রিকেটারই ফিটনেস ধরে রাখা নিয়ে চ্যালেঞ্জে পড়েন। তবে পেসাররা দারুণ ফিটনেসে আলাদা করে আলোচনায় ছিলেন আসরে।

যুব বিশ্বকাপজয়ীদের মাঠে ফেরা

বছরের শুরুতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় করে বাংলাদেশের যুবারা। কিন্তু এমন সাফল্যের পর তাদের সামনে এগোনোর পথে বাধা হয়ে আসে করোনা। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের আট ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পেয়েছেন। যাদের মধ্যে বেশ ক’জন পারফরম্যান্স দিয়ে এসেছেন আলোচনায়। মাহমুদুল হাসান জয় যেমন দারুণ এক ফিফটি করেন। পেসার শরিফুল ইসলাম এক ম্যাচে ৪ উইকেট শিকার করেন।

কয়েকজন নতুন প্রতিযোগী

নির্বাচকদের গুডবুকে আসার মতো পারফরম্যান্স করেছেন বেশ ক’জন। ফাইনালে সুমন খানের ৫ উইকেট নেওয়ার কথা যেমন বলা যায়। পেসারদের দাপটের মাঝে অফ স্পিনার নাঈম হাসানের কথা বলা যায়। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ নজর কেড়েছেন। বাঁহাতি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর খেলেছেন দুর্দান্ত। আসরের সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কার জিতেছেন তিনি।

জাতীয় দলের তারকাদের ব্যর্থতা ও ডমিঙ্গোর বক্তব্য

দেশে ক্রিকেট ফেরার এই আসরে জাতীয় দলের বেশির ভাগ তারকাই হতাশ করেছেন। ব্যতিক্রম বলতে গেলে মুশফিকুর রহিম। যিনি ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন। লিটন দাস ফাইনালে ফিফটি করে নিজেকে ফিরে পাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তবে তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হকরা হতাশ করেছেন।

জাতীয় দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো অবশ্য বলেছেন, এই আসরে ক্রিকেটারদের অফ ফর্ম নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন তিনি। তবে পেসারদের ফিটনেস তাকে মুগ্ধ করেছে। টুর্নামেন্টের আগে খুবই সংক্ষিপ্ত অনুশীলন পর্ব হলেও বেশ কিছু তরুণ ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সেও মুগ্ধ এই দক্ষিণ আফ্রিকান।

আরো পড়ুন:

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে চ্যাম্পিয়ন মাহমুদউল্লাহ একাদশ

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে টুর্নামেন্ট সেরা মুশফিক

সেরা ব্যাটার শুক্কুর, বোলার রুবেল

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত