ফাঁসিতে ঝুলে প্রেমিকার আত্মহত্যার ১০ মাস পরে প্রেমিক আটক

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৯ পিএম

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার দশ মাস পর সোমবার রাতে প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রধান উপ-পুলিশ কমিশনার জাকির হাসান জানান, টঙ্গী পূর্ব থানার মধ্য আরিচপুরের শেরে বাংলা রোড এলাকার মো. মোশারাফ হোসেনের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতো হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার পিয়াইম এলাকার দ্বীন ইসলামের মেয়ে নুরুন্নাহার বেগম (১৮)। ওই বাসার পাশেই হোটেল বাবুর্চি হাবিবুর রহমান হাবিব (২২) বসবাস করতো। পাশাপাশি বাসায় থাকায় তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১ হতে ৪ জানুয়ারি সকাল ৯টার  মধ্যে যে কোন সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তর জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. দ্বীন ইসলাম বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে  নুরুন্নাহার বেগমকে মৃত্যুর আগে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে আলামত পাওয়া যায়।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে প্রেমিক হাবিবুর রহমান হাবিব (২২) কে তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার পুড়াইখলা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে। তার বাবার নাম নুরুল ইসলাম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হাবিবুর রহমান পুলিশকে জানায়, নুরুন্নাহার বেগমের সঙ্গে হাবিবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিল। নুরুন্নাহার বেগম যে দিন আত্মহত্যা করেছিল সেই দিনেও হাবিব তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিল। তাদের দুজনের মোবাইল ফোনে কথা-কাটাকাটি হলে নুরুন্নাহার ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। এ ব্যাপারে সোমবার টঙ্গী পূর্ব থানার মামলা হলে ওই দিনই তাকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত