এলাকাভিত্তিক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এমপি।
তিনি বলেন, এই তালিকায় কোনো অমুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারবে না। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বত্র রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও পাকিস্তানি মুজাহিদ বাহিনীর সদস্যদের তালিকা তৈরি করতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সকল ইউনিটকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ গড়ার মাধ্যমে তারা বীরের পরিচয় দিয়েছেন। এজন্য সব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নামের পূর্বে ‘বীর’ লেখা উপাধি দিয়ে শিগগরিই গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য আগামীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর নামকরণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করতে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি কিছুদিনের মধ্যে তা বাস্তবায়ন হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তাদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। ১ ডিসেম্বরকে সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা দিবস ও ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা ও জয় বাংলাকে জাতীয় ধ্বনি করার বিষয়ে মতপ্রকাশ করেন তিনি।
প্রধান বক্তা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালে সেনাপতিদের প্রতিষ্ঠা বা কোনো ধর্মীয় কারণে যুদ্ধ হয়নি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। জিয়াউর রহমানের আমলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সৃষ্টি। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও তার দোসরদের মধ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের কোনো চেতনা ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী গেজেটভুক্ত অনেক দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা আছেন যারা সরকারের ভাতা দিয়ে চলেন।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম নগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে জেলা ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার একেএম সরোয়ার কামাল দুলুর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মো. ওসমান আলী ও যুগ্ম সদস্য সচিব এবিএম সুলতান আহমেদ।
