পঞ্চগড়ে তিন মাস ধরে উত্ত্যক্তের শিকার এক কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।
এ সময় তার মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা বাসায় এসে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
রবিবার রাতে পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই তরুণকে আটক করেছে সদর থানা-পুলিশ।
আটকেরা হলেন- কামাতপাড়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে আহসান হাবীব (১৮) এবং তার সহযোগী একই গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে নজরুল ইসলাম জনি (২৭)।
প্রতিবেশীরা জানান, আহসান এলাকায় নেশাখোর হিসেবে পরিচিত। আহসান হাবিব প্রায় ছয় মাস ধরে ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। রাস্তায় বের হলেই তাকে উত্ত্যক্ত করেন।
গত তিন মাস আগে কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে ভোরবেলা আহসান হাবিব গালিগালাজ করে উত্ত্যক্ত করেছিলেন। এ নিয়ে কিশোরীর প্রবাসী ভাই তার বন্ধুকে দিয়ে সাবধান করেছিলেন। কিন্তু হাবিবের উত্ত্যক্ত করা কোনোক্রমেই থামেনি।
এ নিয়ে পঞ্চগড় পৌরসভায় উল্টো অভিযোগ করেন হাবিবের পরিবার। তবে সেই অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান স্থানীয় কাউন্সিলর ওমর ফারুক জাহাঙ্গির।
তিনি বলেন, সোমবার সেই অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
কিশোরীর মা রবিবার রাতে সাংবাদিকদের জানান, প্রতিনিয়ত হাবিব তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে আমার মেয়েকে হুমকি দিয়ে আসছিল। আমার মেয়ে কিছুতেই হাবিবের সঙ্গে সম্পর্ক করতে রাজি হয়নি।
কিশোরীর মা আরও বলেন, রোববার সন্ধ্যার পূর্বে হাবিব ও জনি আমার বাসায় এসে মেয়েকে হুমকি দেয় যে আগামীকাল পৌরসভায় আমাদের বিচার হবে। তবে তার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক না গড়লে মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে। অথবা তাকে তিন লাখ টাকা দিতে হবে।
পরে ওই দুজন হুমকি দেওয়ার পর রাতে মেয়েটি সহ্য করতে পারেনি বাধ্য হয়ে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। ভাগ্যক্রমে আমি তখন ঘরের ভেতর মেয়েকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এসে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে। আমি আহসান হাবিব ও তার সহযোগী নজরুল ইসলাম জনির বিচার দাবি করছি। এ নিয়ে থানায় মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছি।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আবু আক্কাছ আহাম্মেদ কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
