আখাউড়ায় সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী পরিবারের বাড়ি দখলের অভিযোগ

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২০, ০২:৪৬ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মো. নূরুল হক ভূইয়ার বিরুদ্ধে এক প্রতিবন্ধী পরিবারের বাড়ি ভাড়া নিয়ে ২০ বছর ধরে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার সকালে আখাউড়া পৌরশহরের রাধানগরের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন বাড়ির মালিক মো. আবুল কালাম চৌধুরী (৭২)। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আখাউড়া পৌরশহরের রাধানগর মৌজার ২৯৩ দাগে বিএস ১৩১০ দাগে খরিদ সূত্রে আমি সাড়ে ৪ শতক ভূমির মালিক। বিএস ২০৪নং চূড়ান্ত খতিয়ানে আমার নামে ভূমিটি লিপিবদ্ধ হয়।

ক্রয়ের পর আমি উক্ত জায়গায় ভিট পাকা চারচালা টিনের ঘর নির্মাণ করি। বিগত ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি আখাউড়া পৌরসভার তৎকালীন মেয়র মো. নূরুল হক ভূইয়া ভাড়াটিয়া চুক্তি মূলে মাসিক ১২শ টাকায় আমার বাড়িটি ভাড়া নেন।

প্রথমদিকে ৫/৬ মাস ভাড়া পরিশোধ করে এরপর তালবাহানা করে ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ দিন ভাড়া পরিশোধ না করায় ২০০২ সালে ভাড়া আদায় ও বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে একটি সালিশ সভা হয়। কিন্তু সালিশ সভার রায় অনুযায়ী সাবেক মেয়র মো. নূরুল হক ভূইয়া আমার পাওনা বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করে নানা তালবাহানা করে প্রায় ২০ বছর ধরে আমার কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটি জোর করে দখল করে রেখেছেন।

বাড়িটি ছাড়ার জন্য বারবার তাকে তাগাদা দিলেও তিনি ব্যক্তিগত বাহিনী ও দলের প্রভাব খাঁটিয়ে আমাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। আমি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

মো. আবুল কালাম চৌধুরী আরও বলেন, আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ। আমার ৫ ছেলেমেয়ে। এর মধ্যে ২ ছেলে এক মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী। এক প্রতিবন্ধী ছেলে অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে।

বর্তমানে অর্থের অভাবে সংসারের ভরণপোষণসহ প্রতিবন্ধী ২ সন্তানের চিকিৎসা খরচ চালাতে পারছি না। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

তিনি তার বাড়িটি উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মো. আবুল কালাম চৌধুরীর স্ত্রী লূৎফুন্নাহার ও ছেলে মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মো. নূরুল হক ভূইয়া বলেন, মো. কালাম চৌধুরীর কাছ থেকে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলাম সত্য। পরবর্তীতে জায়গাটি সরকারি অর্পিত সম্পত্তি জানার পর আমি জেলা পরিষদ থেকে জায়গাটি বন্দোবস্ত (লিজ) এনেছি। লিজ মূলে আমি এখন বাড়িতে বসবাস করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত