মাদারীপুরে আট কোটি টাকার ক্ষতি

বন্যায় ভেসে গেছে কলা ও পেয়ারা চাষিদের স্বপ্ন

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ০২:২৫ এএম

দ্বিতীয় দফার বন্যার পানিতে মাদারীপুরের কলা ও পেয়ারা চাষিদের আট কোটি টাকার স্বপ্ন মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে মাদারীপুরের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ কলাবাগান শতভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে নষ্ট হয়েছে কোটি টাকার থাই পেয়ারা। অনেক চাষি ঋণ করে কলাচাষ করায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জানা যায়, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার সন্ন্যাসীরচর, কাঁঠালবাড়ী, চরজানাজাত, শিরুয়াইল, মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল, ছিলারচর, শিরখাড়া, বাহাদুরপুর, দুধখালী, কুনিয়া, রাজৈর উপজেলার বদরপাশা, কবিরাজপুর, পাইকপাড়া ও কালকিনি উপজেলার প্রায় ৩০টি ইউনিয়নের চাষিরা অধিক লাভের আশায় ব্যাপকভাবে কলাচাষ করেছিলেন। চাষিদের প্রতিটি বাগান কলার মোচা ও কাঁদিতে ভরে উঠেছিল। আর কয়েকদিন পরেই কলা বিক্রি করতেন তারা। তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন নতুন উদ্যমে বাঁচার। কিন্তু সম্প্রতি দু’দফার বন্যার পানিতে কলাচাষিদের স্বপ্ন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বাগানের সমস্ত কলাগাছের গোড়া পচে গেছে। ফলে কলাচাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এক হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ফল আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কলা আবাদ করা হয়েছিল ২৬০ হেক্টর জমিতে। সাম্প্রতিক দুই দফা বন্যায় এসব কলাবাগান বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার পরিমাণ অন্তত ১৩০ হেক্টর। টাকার অঙ্কে এটা প্রায় ছয় কোটি মূল্যমানের।  এছাড়া, পেয়ারা চাষ হয়েছিল ৪২৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ৪২ হেক্টর জমির  পেয়ারা বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় কোটি টাকা।

মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বিরঙ্গল গ্রামের কলাচাষি সেলিম বয়াতী বলেন, ৬৩ শতাংশের ৫ বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে আমার বাগানের সব কলাগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমি কমপক্ষে ৭ লাখ টাকার ক্ষতির মধ্যে পড়েছি। আমার যে ক্ষতি হয়েছে তাতে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।  মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের দাসেরচর গ্রামের আলমগীর হোসেন খান বলেন, বাণিজ্যিকভাবে ৮ বিঘা জমিতে উচ্চফলনশীল পেয়ারা বাগান করেছিলাম। বন্যার পানিতে পেয়ারা বাগান তলিয়ে যাওয়ায় ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার পেয়ারা পচে গেছে। অথচ ক্ষয়ক্ষতি দেখার জন্য কৃষি বিভাগ থেকে কেউ আসেননি বাগানে। মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আমরা প্রণোদনা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ফলবাগান চাষিদের প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত