জয়পুরহাটে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগে ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুসকে (৫৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার রাতে সদর উপজেলার চকশ্যাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল কুদ্দুস জয়পুরহাট সদর উপজেলার রাঘপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৪ নভেম্বর আনুমানিক সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস খঞ্জনপুর এলাকার ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীকে বিদেশ পাঠানোর জন্য পাসপোর্ট তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এবং তাকে আটকে রাখে।
পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সন্ধ্যায় জয়পুরহাট র্যাব ক্যাম্পে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে র্যাব বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অনুসন্ধান ও অভিযান চালিয়ে খঞ্জনপুর এলাকা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে। তারপর সদর উপজেলার চকশ্যাম এলাকায় ওই ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার কাছ থেকে বিভিন্ন অল্প বয়সী কিশোরীর আপত্তিকর ছবি সংবলিত মোবাইল ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১০/১২ বছর ধরে কুদ্দুস মেম্বার দর্জি, সেলাই প্রশিক্ষণের নামে বিভিন্ন বয়সের নারীকে যৌন হয়রানি করে আসছেন এবং জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নারী পাচারসহ অবৈধভাবে অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি হওয়ায় অনেকেই তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খোলে না।
স্থানীয় দোগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, দোগাছি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে। তারা জনপ্রতিনিধি আইনে ব্যবস্থা নেবেন।
র্যাব-৫, জয়পুরহাট র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাইমেনুর রশিদ বলেন, ওই ধর্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রতারণাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং সে এর আগে বেশ ক’জন অসহায় নারীর জীবন ধ্বংস করার অপরাধে স্থানীয়ভাবে একজন কুখ্যাত অপরাধী হিসেবে পরিচিত। এ ব্যাপারে জয়পুরহাট থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
