হাতিয়ায় এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎবিভ্রাট, গ্রাহকদের দুর্ভোগ

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২০, ১০:২৭ এএম

হাতিয়ায় গত শুক্রবার থেকে দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। পাঁচশ কেভির একটি জেনারেটর দিয়ে উপজেলা পরিষদ ও আশপাশের এলাকায় নামমাত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ীসহ সব গ্রাহকেরা।

দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

কম্পিউটার ফটোকপিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ইতিমধ্যে ফ্রিজে সংরক্ষিত মালামাল ওষুধপত্র নষ্ট হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা সদরের বড় ফলের আড়তদার জাকের হোসেন জানান, ঢাকা থেকে ফল এনে কুলি সিস্টেমের মাধ্যমে সেগুলো ঠান্ডা রেখে বিক্রি করতে হয়।

বিদ্যুৎ না থাকায় তার প্রায় ৫ লাখ টাকার ফল নষ্ট হয়েছে। মোহাম্মদিয়া হোটেলের মালিক আয়াত হোসেন জুয়েল ও বাগেরহাট রেস্টুরেন্টের মালিক জানান তাদের ফ্রিজে রাখা হাজার হাজার টাকার মাংস ও মসলা নষ্ট হয়েছে।

হাতিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কার্যালয় সূত্র জানায়, হাতিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বারো বছর দক্ষ ইঞ্জিন চালক নেই। ইঞ্জিন চালকের সহকারী (পিডার-বি) দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে।

৫০০ কেভির চারটি জেনারেটর পর পর নষ্ট হওয়ায় এবং সর্বশেষ এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম জেনারেটরটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার থেকে বিদ্যুৎ সংকট চরমে পৌঁছেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, অচল জেনারেটরগুলো (ইঞ্জিনগুলো) সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পুরোদমে বিদ্যুৎ চালু হতে দশ/পনেরো দিন সময় লাগবে।

উল্লেখ্য, যে ডিজেল চালিত জেনারেটরের সাহায্যে হাতিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি পরিচালিত হয়। ছয় লাখ হাতিয়াবাসীর মধ্যে শুধুমাত্র হাতিয়া পৌরসভার মাত্র দুই হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত