নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই বলে অভিযোগ করে ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, ধানের শীষের গণজোয়ারে ভীত হয়ে আওয়ামী লীগ, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও স্থানীয় প্রশাসন মিলে আগামী ১২ নভেম্বর ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চায়।
ভোটের দিন পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না বলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করেই ঘরে ফিরব।
সোমবার গণসংযোগ শেষে তিনি এসব বলেন। এর আগে সাড়ে ১১টায় উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের নিজ নির্বাচনী কার্যালয় থেকে গণসংযোগ শুরু করেন এস এম জাহাঙ্গীর। এরপর আবদুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন সড়কে গণসংযোগ শেষে ১২ নম্বর সড়কে শহীদ ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গিয়ে পথসভা করেন তিনি।
পথসভায় জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচনের দিন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রে যাব। ভোটারবিহীন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের মতো নির্বাচন হতে দেব না। এ জন্য ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
জাহাঙ্গীর বলেন, এখানে যত অনিয়ম হচ্ছে, সন্ত্রাস হচ্ছে প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করছে না। ইসিও কোনো সহযোগিতা করছে না। আমরা বারবার ইসিকে জানিয়েছি। আমরা যখন থানায় যোগাযোগ করি তখন তারা উপরের কথা বলে। আমরা উপর বলতে তো ইসিকে বুঝি। নির্বাচনের সময় সবকিছুই তো ইসির অধীনে থাকে। সিইসি ও স্থানীয় প্রশাসন একত্রিত হয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছে।
তিনি বলেন, যেভাবে ২০১৮ সালে আমাদের সবার নামে নজিরবিহীনভাবে গায়েবি মামলা দিয়েছে ঠিক সেভাবে গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে। গত রবিবার আমাদের ২৩৫ জনের বিরুদ্ধে এ ধরনের একটা মামলা করেছে। আমাদের সাতটি থানার সমস্ত নেতাদের আসামি করা হয়েছে। তারা আমাদের নেতা–কর্মীদের এলাকা ছাড়া করতে চায় এবং ঘর ছাড়া করতে চায়। ভোটের দিন পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না বলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে।
গণসংযোগের সময়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আবদুস সালাম ও হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বনির্ভর বিষয় সম্পাদক শিরীন সুলতানা প্রমুখ।
