মেহেরপুরে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) কত„©ক দুই সাংবাদিককে মারধর এবং ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে ডিসি এই ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে জানান, বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের নজরে এসেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত রবিবার তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতির বিষয়ে মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল কাদেরের বক্তব্য নিতে যান বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি আবু আক্তার করণ ও অনলাইন পোর্টাল বাংলাদেশ রয়টার্সের জেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন। এ সময় ডিডিসহ ৩ স্টাফ তাদের আটকে মারধর এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করে।
জানা যায়, সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বুধবার হলেই অফিসের সরকারি গাড়ি নিয়ে রওনা দেন নিজ বাড়ি পাবনার উদ্দেশে। সেখান থেকে যান শ্বশুরবাড়ি সিরাজগঞ্জ। ফিরে আসেন রবিবার অথবা সোমবার সকালে। এভাবেই অফিস করেন তিনি। সরকারি গাড়ি আছে কিন্তু ড্রাইভার নেই। তাই একজন বাসচালককে খণ্ডকালীন চালক হিসেবে রেখেছেন। গত ৪ মাসে তেল খরচ বাবদ অফিস থেকে উত্তোলন করেছেন ৪৮ হাজার টাকা।
ব্যক্তিগত চালক মিলন শেখ জানান, তার বাড়ি মেহেরপুর। তিনি একজন বাসচালক। ৮/৯ হাজার বেতন চুক্তিতে সমাজসেবা কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি চালান।
]তিনি বলেন, বুধবার কিংবা বৃহস্পতিবার পাবনা যেতে হয় স্যারকে নিয়ে। সেখান থেকে শ্বশুরবাড়ি হয়ে রবি/সোমবার মেহেরপুর আসেন।
অফিস সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত বাড়িভাড়া বাবদ ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। কিন্তু অফিসের একটি কক্ষকে তিনি বাড়ি বানিয়ে সেখানেই থাকেন। শুধু তাই নয় গত ৬ মাসে তিনি তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে কর্মশালার নামে সাড়ে ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাদের ১২ দিনের বিউটিশিয়ান প্রশিক্ষণের জন্য অডিটোরিয়াম ভাড়া, খাবার, সম্মানী ব্যাগসহ বিভিন্ন খাতে এই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তৃতীয় লিঙ্গ প্রশিক্ষণার্থী রেবেকা রোকসানা জানান, অফিসের গাড়ি গ্যারেজ ঘরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ৩৫ জনের জায়গায় প্রশিক্ষণার্থী ছিল ৭ জন। কিন্তু খাতা-কলমে ৩৫ জন দেখানো হয়। প্রশিক্ষণার্থী সীমা খাতুন জানান, তাদের অতি নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছে। সম্মানী ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। কর্মশালায় ব্যাগসহ কোনো সামগ্রী দেননি।
জেলা প্রশাসক মুনসুর আলম খাঁন বলেন, তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। ঘটনাটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে এসেছে। দ্রুতই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী জানান, পুলিশও এই সম্পর্কিত গোয়েন্দ রিপোর্ট উচ্চপর্যায়ে পাঠিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক আবু আক্তার করণের দায়ের করা অভিযোগ পুলিশ জিডি হিসেবে গ্রহণ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
