মগবাজারে উদ্ধার বাবা-ছেলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ০৩:০০ পিএম

রাজধানীর মগবাজার বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া বাবা-ছেলের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে সম্পন্ন হয়েছে।

মর্গ সূত্রে জানা গেছে, মৃতদেহ দুটি থেকে ভিসেরা, ব্লাড, নেকটিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৃত খাইরুলের বড় ভাই জানান, রোড এন্ড হাইওয়ের ঠিকাদারি করতেন খাইরুল। এই ব্যবসায়ের দেড় থেকে দুই কোটি টাকা লোকসান হয়েছে তার। আর ছেলে আরিন অটিস্টিক। এই দুটি কারণেই হতাশায় ছিলেন খাইরুল। মাস দুয়েক আগেও ছেলেসহ তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। হাসপাতালেও ২ দফায় ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছেলে আরিনতো অটিস্টিক। সেতো একা একা ফাঁসি দিতে পারবে বলে মনে হয় না। তাকে ফাঁসি দিয়ে পরে বাবা নিজেই গলায় ফাঁস দিয়েছে কিনা বিষয়টি আমাদের কাছেও পরিষ্কার না। পুলিশই এটি তদন্ত করে বের করতে পারবে।

বাবা ছেলের মৃতদেহ দুটি আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।

স্বজনরা জানান, নয়াটোলার ১৮১/ডি নম্বর ওই বাসার ৫ম তলায় ভাড়া থাকতেন খাইরুল, স্ত্রী নাজমুন নাহার ও একমাত্র ছেলে নিয়ে। তাদের বাড়ি লক্ষিপুর রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রামে।

মৃতদেহ দুটির সুরতহাল প্রতিবেদনে হাতিরঝিল থানার উপ পরিদশর্ক (এসআই) মো. খন্দকার সেলিম শাহরিয়ার জীবন উল্লেখ করেন, বুধবার ওই বাসার দুটি রুম থেকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় লুঙ্গি পেঁচানো ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

খাইরুলের বাম কানে রক্ত জমাট, ডান হাতে পুরাতন দুটি জখম, বাম হাতের নিচে সাড়ে

৩ ইঞ্চি রক্ত জমাট ও পুরাতন ঘা রয়েছে।

এছাড়া শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ৫/৬ মাস ধরে তিনি মানসিক রোগে ভুগছিলেন। শমরিতা হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন তিনি। আর ছেলে আরিনের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজার নয়াটোলা ওই বাসা থেকে বাবা-ছেলের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- খাইরুল ইসলাম সোহাগ (৫৫) ও তার ছেলে শারাত ইসলাম আরিন (১৪)। পরে  ময়নাতদন্তের জন্য রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত