চট্টগ্রামে পটিয়া উপজেলায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত ‘পটিয়া ডায়াবেটিস হাসপাতাল’ মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত রোগীদের একমাত্র ভরসা। বাংলাদেশে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ ডায়াবেটিক রোগীকে কম খরচে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।
প্রতিবছর ১৪ নভেম্বর ডায়াবেটিক দিবসের দিন এ হাসপাতাল চিকিৎসা সেবামূলক নানা কাজ ও প্রচার করে থাকলেও এবার করোনার কারণে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে না বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, পটিয়া ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে পরিচালিত এ হাসপাতাল ২০০১ সালে পটিয়া পৌরসভার বিওসি রোড এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর পার করেছে হাসপাতালটি । এটি শুধু পরীক্ষা ও চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হলেও পরিসর বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
পটিয়া ডায়াবেটিস হাসপাতালের অন্যতম উদ্যোক্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমদ। তিনি এ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। হাসপাতালটি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে থাকে।
শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে ছয় দিন বিশেষজ্ঞ ডায়াবেটিক চিকিৎসক দিবাকর বড়ুয়া হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল হলেই হাসপাতাল ভর্তি হয়ে যায় রোগীদের পদচারণায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয় খালি পেটে। হাসপাতালে প্রতিদিন দু’জন চিকিৎসক চিকিৎসা দেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৫ সদস্য রয়েছে পরিচালনার জন্য। বর্তমানে টিন সেটের দুইটি ভবনে কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালের যে সক্ষমতা, তার চেয়েও বেশি রোগী আসছেন চিকিৎসা নিতে। এ জন্য মাঝেমধ্যে হিমশিমও খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এ হাসপাতালে ফাস্টিং, ব্লাড সুগার , রেনডম, জিটিটি, এসজিপিটি, এসজিওটি, সিরাম কোলেস্টেরল, সিরাম বিলিরুবিন, লিপিড প্রোপাইলসহ ডায়াবেটিস রোগীদের অন্তত ১৫টি পরীক্ষা করা হয় নামমাত্র মূল্যে।
এ সময় কথা হয় পারভীন আকতার নামে বয়োবৃদ্ধ এক রোগীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কম খরচে ভালো সেবা পাই।
আবদুল মান্নান নামে এক রোগী বলেন, তিনি চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা গ্রাম থেকে এ হাসপাতালে সেবা নিতে এসেছেন। পাঁচ-ছয় বছর ধরে এ হাসপাতালে আসা-যাওয়া তার।
হাসপাতালের পরিচালক আবু ওবায়দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন এখানে। অনেক সময় কম-বেশিও হয়ে থাকে। শুধু পটিয়া থেকে নয় দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী থেকেও এখানে রোগীরা আসেন।
তিনি আরো বলেন, এ হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় অনেক কম। যার কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত এখানে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। যেখানে বাইরের হাসপাতাল কিংবা প্যাথলজিতে ডায়াবেটিস রোগীদের পরীক্ষার জন্য ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে আমাদের হাসপাতালে ৭০-১০০ টাকায় সেসব পরীক্ষা করানো হয়। এ ছাড়া গরিব ও দুস্থ রোগীদের বিনা মূল্যে সেবা দেওয়া হয়।
হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির অর্থ সম্পাদক মঞ্জরুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমানে টিন সেটের দুটি ভবনে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এখানে শুধু পটিয়ার রোগীরা সেবা নিচ্ছেন তা নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় থেকে এখানে রোগীরা আসেন। তাই রোগীদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে হাসপাতালের কার্যক্রম বৃহৎ পরিসরে করার চিন্তা রয়েছে আমাদের। হাসপাতালের জায়গায় একটি ১২তলা ভবন করার পরিকল্পনা আছে। যেখানে হাসপাতালের অন্তবিভাগ ও বহির্বিভাগ দুটিই রাখা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
