হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রয়াত আমির আহমদ শফীকে ‘জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে’ বলে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দিন রুহী। এ বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
রবিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের কাউন্সিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর একদিন আগে আহমদ শফিপন্থী নেতা হিসাবে পরিচিত মাওলানা রুহীসহ কয়েকজন সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে আয়োজক হিসাবে হেফাজতে ইসলামের নাম রাখা হলেও আল্লামা শফির স্ত্রীর অনুরোধে এ সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে বলে জানান মাওলানা রুহী।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী কোষাধ্যক্ষ সরোয়ার আলম, প্রচার সম্পাদক শামসুল হক, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ওসমান কাশেমীসহ বেশ কয়েকজন এতে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিল প্রসঙ্গে মাওলানা রুহী বলেন, হেফাজতে ইসলামের একটি সাংগঠনিক নিয়ম-নীতি আছে। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে এ পদ নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে কাউন্সিলের কোনো প্রয়োজন নেই। তাছাড়া হুজুরের হত্যার বিচারের দাবি না তুলে ১৫ নভেম্বর কাউন্সিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। এ কাউন্সিলের মাধ্যমে হুজুরের গড়া সংগঠনকে সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
অবিলম্বে এ সম্মেলন বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
সংগঠনের সাবেক আমির আল্লামা আহমদ শফির মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ও আহমদ শফির শ্যালক মাওলানা রুহী বলেন, ‘গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় কিছু ছাত্রকে উসকে দিয়ে জামায়াত-শিবিরের লেলিয়ে দেওয়া ক্যাডার বাহিনী মাদ্রাসা অবরূদ্ধ করে রাখে। ওইসময় জোরপূর্বক হুজুরের কক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও হুজুরকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে শফী হুজুরকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হন। এতে হুজুর অসুস্থ হয়ে পড়লে মুখে অক্সিজেন দেওয়া হয়। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের প্রেতাত্মারা অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিলে তিনি মুত্যু মুখে পতিত হন। পরে অ্যাম্বুলেন্স আনা হলেও তারা ঠিক সময়ে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়তে দেয়নি। এভাবে পরিকল্পিতভাবে হুজুরকে হত্যা করা হয়েছে। তাই হুজুরের স্ত্রী ফিরোজা বেগম ও তার পরিবারের পক্ষে থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আল্লামা শফির মৃত্যুর রহস্য উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি’।
