১৫ নভেম্বর প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সৌমিত্রর স্মৃতিকে স্মরণীয় রাখতে আর্কাইভ গড়ে তুলতে চায় তার পরিবার। আর এমন ঘোষণা দিয়েছেন সৌমিত্রর মেয়ে পৌলোমী বসু। সৌমিত্রের দীর্ঘ রোগভোগ পর্বেই এই সংকল্পে স্থিত হয়েছিলেন তিনি।
৪০ দিন নাগাড়ে বাবার জন্য ছোটাছুটির পরে রবিবার সৌমিত্রের প্রয়াণ দিবসটির শেষে শরীর যেন ছেড়ে দিয়েছে। ‘কিংবদন্তি বাঙালি’র দেহ নিয়ে যেখানেই যাওয়া হয়েছে, বাবার পাশটিতে অবিচল ছিলেন মেয়ে। শেষকৃত্য সেরে বাবুঘাটে অস্থি ভাসিয়ে ফেরার পর থেকে চেপে বসেছে পৃথিবীর ক্লান্তি। তবু পৌলমীর একটাই শান্তি: ‘‘শেষ সময়ে বাবাকে যারা দেখছিলেন, তারা ভালোবেসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ৪০ দিনেও বাবার বেডসোর হয়নি। ডাক্তার, নার্সদের কাছে আমি চিরঋণী।’
সদ্য পিতৃহারাকে নানা দায়িত্ব নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। ‘‘আমি বা বাবা কেউই মৃত্যুর পরের কোনও অস্তিত্ব তেমন মানি না, পারলৌকিক আচারের আনুষ্ঠানিকতাতেও ভক্তি নেই। তবু আমাকেও কিছু কাজ করতে হবে। কারণ মা এ সব মানেন।’সোমবার বলছিলেন পৌলোমী। আজ, মঙ্গলবার দক্ষিণ কলকাতার একটি মন্দিরে পিতৃবিয়োগে কন্যার পালনীয় আচার সারবেন তিনি। পৌলমীর ভাই সৌগতও সময়মতো যা করার করবেন। ‘‘কিন্তু আমার মনের মতো পিতৃতর্পণ, তার জীবনের উদ্যাপন— সেটা আমি পরে, আমার মতো করে করব,’’ বলছেন সৌমিত্রকন্যা।
টালিগঞ্জের আর্টিস্টস ফোরাম থেকে এবং পৌলমীদের ‘মুখোমুখি’ নাট্যদলের পক্ষেও অনুষ্ঠান ঘোষণা করা হবে। এই দল তৈরির পরে সৌমিত্রের মঞ্চের কাজ কিছুটা গোছানো গিয়েছে। চেনা ছবিগুলির বাইরে তার অজস্র সিনেমা নিয়েও কার্যত উদাসীনই ছিলেন সৌমিত্র। তার বাচিক সৃষ্টির সম্ভারও এলোমেলো ছড়িয়ে। এই সব কিছু ছাড়াও সৌমিত্রের লেখা, আঁকা, নানা সময়ের ডায়েরি, সিনেমার চিত্রনাট্যের কপিতে নিজের জন্য নেওয়া ‘নোট’— সব কিছুতেই থাকতে পারে ইতিহাসের উপাদান। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় যে মূর্তিমান ইতিহাসের একটি অধ্যায়— সেটা বুঝেই সুবিন্যস্ত আর্কাইভের দরকার বলে পৌলমীর অভিমত। তিনি বলেন, ‘‘বাবার সব কাজ যেখানে সহজে পাওয়া যাবে, এমন আর্কাইভের বিষয়টা বেশ কিছু দিন ধরেই মাথায় ঘুরছে। খুব শিগগিরই পরিকল্পনাটা গুছিয়ে ফেলব।’’
