সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সিলেট ও সুনামগঞ্জের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
বুধবার সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত একটানা ৩১ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন এই সঞ্চালনকেন্দ্রের আওতাধীন প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক। কবে ফের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।
একটানা বিদ্যুৎবিহীন থেকে সিলেট মহানগরীর জীবনযাত্রা থমকে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাসা, বাড়িতে পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। পানির অভাবে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ঘটনা তদন্তে নেমেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। ঘটনার পর থেকেই মেরামত কাজ চলছে। বিদ্যুৎ না থাকায় লোকজনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে পানির জন্য লোকজনকে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল চলছে জেনারেটর দিয়ে। জেনারেটর চালাতে গিয়ে কিছু কিছু সময় বন্ধ রাখা হচ্ছে বিদ্যুৎ। এ সময় অনেককেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সিলেটের কyমারগাঁও ১৩২/৩৩ এই কেন্দ্রে « আগুন লাগার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) সঞ্চালন-২ এর প্রধান প্রকৌশলী সাইফyল ইসলামকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। গঠিত কমিটিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লি বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সদস্য প«কৌশলীকে রাখা হয়েছে।
পিজিসিবি’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হল সেটি খতিয়ে দেখছেন।
গত মঙ্গলবার সকাল ১১ টা ১০ মিনিটে কুমারগাও সরবরাহ কেন্দ্রের সাব গ্রেড থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর আগুন ছড়িয়ে পরে মূল গ্রেডে। এতে দুটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার, সার্কিট ব্রেকার, পাওয়ার কন্ট্রোল প্যানেল পুড়ে যায়। এতে করে সিলেট বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই সিলেট নগরী ও এর আশপাশ এলাকা রয়েছে অন্ধকারে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী জানান, নগরীতে পাম্পগুলোর একটি জেনারেটর চালিত। সেটি থেকে মেয়রের তত্ত্বাবধানে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে পুরো নগরীতে পানির জন্য হাহাকার থাকলেও সবখানে পানি সরবরাহ করা সম্ভব না।
