নারীর মৃতদেহ ধর্ষণে অভিযুক্ত ডোম যেভাবে ধরা পড়ল

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৪৫ পিএম

ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে একাধিক মৃত নারীর দেহে একজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতির সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের ডোম মুন্না ভগতকে (২০)।

বিবিসি বাংলা জানায়, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ধারণা, অন্তত দেড় বছর ধরে মর্গে আসা নারীদের মরদেহ ধর্ষণ করে আসছিলেন অভিযুক্ত।

মামার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে মর্গে কাজ করত মুন্না ভগত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করত সে। সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়া হতো, সেসব লাশের মধ্য থেকে মৃত নারীদের ধর্ষণ করত মুন্না। বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

সিআইডির বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশে ধর্ষণ, হত্যাসহ যেসব ঘটনায় মরদেহ ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়, সেসব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা এবং প্রোফাইল তৈরি করে থাকে সিআইডি।

২০১৯ এর মার্চ থেকে ২০২০ এর আগস্ট পর্যন্ত একটি মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে পাওয়া মৃত নারীদের দেহে পুরুষ শুক্রাণুর উপস্থিতি পায় সিআইডি। একাধিক নারীর মরদেহে একজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি তাদের চমকে দেয়। তারা সেই পুরুষকে চিহ্নিত করার জন্য মাঠে নামে।

সিআইডি জানায়, মরদেহে পাওয়া শুক্রাণুর ওপর ভিত্তি করে সেই পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়। পরে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনা থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল মিলে যায় ।

প্রাথমিকভাবে সিআইডির ধারণা ছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে অথবা হত্যার পর ধর্ষণ করেছে। 

তবে পরে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের পর সিআইডি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে কোনো একজন ব্যক্তি মরদেহের ওপর 'বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ' করছে।

পরে সিআইডির গোপন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে প্রত্যেক ভুক্তভোগীর মরদেহের ময়নাতদন্ত একটি নির্দিষ্ট হাসপাতালের মর্গে করা হয়েছে।

হাসপাতালটির মর্গের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করে সিআইডি জানতে পারে যে, ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া মরদেহ ব্যবচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে পরের দিন মর্গে রেখে দেয়া হতো।

মর্গের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করার পর তদন্তকারীদের সন্দেহ হয় যে মর্গের ডোমদের কেউ অপরাধ সংঘটন করে থাকতে পারে।

সন্দেহের ভিত্তিতে ওই নির্দিষ্ট হাসপাতালের ডোমদের গতিবিধি পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা। তদন্তের সময় জানা যায় যে হাসপাতালটির একজন ডোম পাঁচটি ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর মরদেহ পাহারা দেয়ার জন্য রাতে মর্গে ছিল।

এরপর বিস্তারিত তদন্তের পর তথ্য-প্রমাণের সাপেক্ষে সিআইডি নিশ্চিত হয় যে অভিযুক্ত ডোম মুন্না এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এদিকে মুন্না তদন্তের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গা ঢাকা দেয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করে।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছে। মুন্না ভগত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের ডোম ও তার মামা জতন কুমার লালের সহযোগী হিসেবে কাজ করত।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত