স্ত্রী বলছেন আত্মহত্যা, স্বজনদের দাবি হত্যা

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২০, ০২:২০ পিএম

ঢাকার কেরানীগঞ্জে মো. মনির (২৭) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের স্ত্রী বলছেন গতরাতে আত্মহত্যা করেছেন তার স্বামী, তবে স্বজনদের দাবি মনিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

সোমবার রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন বাহেরচর এলাকায় মনিরের শ্বশুর বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহত মনিরের বাড়ি শরিয়তপুরের সূর্বহাটের পূর্বচরসন্ধি গ্রামে। পেশায় তিনি একজন শ্রমিক ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী মেহেরুন নেসা (২০) জানান, ৮ বছর ধরে মনিরের সাথে তিনি সংসার করছেন। তাদের ঘরে দুই মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে তিনি অন্তঃসত্ত্বা। মনির যেখানে কাজ করতেন ১৫ দিন আগে সেখানে কোনো একটা বিষয় নিয়ে তার সহকর্মীদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। এরপর থেকে মনির নিয়মিত কাজেও যেতেন না।

১০-১২ দিন আগে শ্যালকের মোবাইল ফোন নিয়ে নিলে মনিরের সাথে স্ত্রীর কথা কাটাকাটি হয়। তখন তিনি রাগ করে বাবার বাড়ি চলে আসেন। ২ দিন পর তিনি আবার চলে যান তার বাড়িতে।

৪-৫ দিন আগে দুইজনে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন যে এখন থেকে মেহেরুন নেসা তার বাবার বাড়িতে থাকবেন এবং মনির নিয়মিত কাজ করবেন এবং খরচ পাঠাবেন। ওইদিনই মনিরের সাথে তার শেষ কথা হয় এবং তিনি বাপের বাড়িতে চলে আসেন।

গত কয়েকদিন মনিরের কোনো খোঁজখবর ছিল না। গতকাল রবিবার সকালে মনির তার শ্বশুর বাড়ির সামনে এসে মেয়েকে ডাকেন এবং তার ভোটার আইডি কার্ডটি চান। মেহেরুন নেসা মেয়েকে দিয়ে মনিরের ভোটার আইডি কার্ডটি পাঠিয়ে দিলে মনির কারো সাথে দেখা না করেই চলে যান।

রাতে খাওয়া-দাওয়া করলে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত একটার দিকে মেহেরুন নেসা শৌচাগারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে ঘরের বাইরে আড়ার সাথে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মনিরের লাশ দেখতে পান। তার ডাক চিৎকারে তখন সবাই সজাগ হয়ে মনিরের লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়।

এদিকে নিহতের পরিবার দাবি করছে, পরিকল্পিতভাবে মনিরকে হত্যা করে এটা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাইছে মনিরের শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

নিহতের বোন নুরুন নাহার বলেন, আমার ভাই নিরীহ প্রকৃতির ছিল। ফাঁসি দেওয়া লাশ পুলিশ নামাবে, কিন্তু পুলিশ আসার আগে তারা নিজেরাই নাকি লাশ নামিয়েছে। তারা কেন লাশ নামাবে? আর নিহতের কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে দেখলাম। এটা ফাঁসি হতে পারে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই মো. খাইরুল জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করি। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত