চট্টগ্রাম নগরীকে নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে সব সেবা সংস্থাকে সমন্বিত উদ্যোগে উন্নয়নকাজ পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।
বুধবার দুপুরে নগরীর টাইগারপাস বাটালিহিলের অস্থায়ী অফিসের কনফারেন্স রুমে নগরীর সব ধরনের সেবা সংস্থার সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খোরশেদ আলম সুজন বলেন, দখল, দূষণ, জলাবদ্ধতা, যানজট, অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে চট্টগ্রাম নগরী এখন শ্রীহীন নগরে পরিণত হয়েছে। অথচ চট্টগ্রাম থেকে ঘুমধুম হয়ে মিয়ানমার দিয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত রেললাইনের সসারণ কাজ সম্পন্ন ও ভারতের সেভেন সিস্টার, নেপাল, ভুটান, তিব্বত ও আরও কিছু দেশ সংযুক্ত হয়ে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপিত ও বে-টার্মিনালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম শহর রিজিওনাল কানেকটিভিটির কেন্দ্রে পরিণত হবে।
সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, আমরা অতীতের সব দূরত্ব ঘুচিয়ে সব শ্রেণিপেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। জলাবদ্ধতার মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি আউটার রিং রোডের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। কবি নজরুল ইসলাম রোড থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ৬০ ফুট প্রশস্ত করা হয়েছে। কোথাও ৬০ ফুট না থাকলে প্ল্যানও দেওয়া হচ্ছে না।
সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, নগরীবাসী আমাদের ভুল বোঝে সড়ক কাটার কারণে। পানি সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য আমরা সড়ক কাটছি। ২০০৯ সালে নগরে পানি সরবরাহ হতো ১২ কোটি লিটার। প্রয়োজন ছিল ৪০ কোটি লিটার। সেই পরিস্থিতির এখন উত্তরণ ঘটেছে। রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় শেখ হাসিনা পানি শোধনাগর প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে সুপেয় পানির সংকট থাকবে না।
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন, কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সরওয়ার হোসেন, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদ, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. নুরুল্লাহ নুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিবেন্দু খাস্তগীর, গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ওম প্রকাশ নন্দী, বিআরটিএর চট্টগ্রাম ডিভিশনের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ।
