নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা প্রায় হাতের নাগালে চলে এলেও ডিসেম্বর মাসে ইউরোপে করোনা সংক্রমণের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাড়ছে বড়দিনের উৎসব নিয়ে দুশ্চিন্তা।
ডয়চে ভেলে জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) করোনা প্রতিরোধী একাধিক টিকা কেনা ও বিতরণের উদ্যোগ নিলেও এই মুহূর্তে তার সুফল পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
ফলে শীতের মাসগুলোতে সংক্রমণ বেড়ে চলায় পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে ইইউর সদস্য দেশগুলো।
আসন্ন বড়দিনের উৎসব উপলক্ষে পারিবারিক সমাবেশ ‘সুপারস্প্রেডার ইভেন্ট’ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক ভাবাবেগে ‘আঘাত’ করা উচিত কিনা, সে বিষয়েও বিতর্ক চলছে।
জার্মানির ১৬টি রাজ্যের সরকার প্রধান সম্মিলিতভাবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে একমত হয়েছেন।
বড়দিন পর্যন্ত বার ও রেস্তোরাঁ আপাতত বন্ধই রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই লোকসান পূরণ করতে জার্মানির সরকারকে ডিসেম্বর মাসে প্রায় এক হাজার ১৭ কোটি ইউরো ভর্তুকি দিতে হবে। নভেম্বর মাসে সেই লক্ষ্যে ১৪ থেকে ১৫ হাজার কোটি ইউরো বরাদ্দ করা হয়।
রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর বুধবার জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল জানান, ২০ ডিসেম্বরের আগে চলমান লকডাউন তোলা হচ্ছে না। বরং জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকতে পারে।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিধিনিষেধ মানার জন্য প্রথমত আমি জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং দ্বিতীয়ত চলমান বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হচ্ছে না।’
মার্কেল বলেন, ‘এখনো প্রতিদিন অনেক মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে। আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো রোগীতে একেবারে ভর্তি। ফলে নভেম্বরে বিধিনিষেধ তুলতে আমরা সম্মত হতে পারিনি।’
এদিন আরোপ করা নতুন বিধিনিষেধে ঘরোয়া কাজে ১০ জনের সাক্ষাতের বিষয়টি ৫ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। ছুটির দিনে ভ্রমণ বিশেষ করে স্কি করতে যাওয়ার প্রতি কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত।
২৩ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত বড়দিনের ছুটি থাকবে দেশটিতে। এ সময় একজন ব্যক্তি ঘরোয়া প্রয়োজনে দশজনের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।
রাজ্য সরকারের প্রধানেরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যাতে ছুটির আগে পরে স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে থাকে। ঘরে বসে বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদ্যাপনে কোনো বাধা থাকবে না। এ ব্যাপারে সরকারি কর্মীদের প্রতিও নমনীয়তা প্রদর্শন করতে বলা হয়।
তবে উৎসবে বাজি ফোটানোয় শক্তভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। যদিও ব্যক্তিগত জায়গায় আতশবাজি পোড়াতে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি।
এদিকে বুধবার জার্মানিতে আরও ৪১০ জন মারা গেছেন, এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে মোট ১৪ হাজার ৭৭১ জনের মৃত্যু হলো। এ সময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৬৩৩ জন, এখন পর্যন্ত আক্রান্ত প্রায় ১০ লাখ।
বড়দিনের সময় যুক্তরাজ্যেও কড়াকড়ি শিথিল করা হচ্ছে। ফলে সর্বোচ্চ তিনটি পরিবারের সদস্যরা মিলিত হতে পারবেন। তবে ‘ক্রিসমাস বাবল’-এর আওতায় তিনটি পরিবারকে অন্যান্য পরিবারের সঙ্গে মেলামেশা করতে দেওয়া হবে না।
বড়দিনের উৎসবের পাশাপাশি পাহাড়ে স্কি করার প্রচলিত রীতির কারণেও করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী ইউসেপ কোঁতে করোনা সংক্রমণের ‘তৃতীয় ঢেউ’ এড়াতে দেশটিতে স্কি করার ছুটি বাতিল করার ঘোষণা করেছেন।
তিনি ইউরোপীয় স্তরে এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিলেও অস্ট্রিয়া ইউরোপজুড়ে স্কি-র উপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। অথচ দেশটিতে ইশিগ্ল নামের স্কি কেন্দ্রে চলতি বছরের শুরুতে করোনা ভাইরাসের অন্যতম প্রধান ‘হটস্পট’ দেখা গিয়েছিল৷ সেই উৎস থেকে জার্মানিসহ একাধিক দেশে সংক্রমণের হার বেড়ে গিয়েছিল।
