মুনীর চৌধুরীর জন্মদিনে চলে গেলেন আলী যাকের

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১১:৪৯ এএম

নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও শিক্ষাবিদ মুনীর চৌধুরীর জন্মদিনে চলে গেলেন নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন মুনীর চৌধুরী। কারাগারে বসে পরের বছর তিনি লেখেন ভাষা আন্দোলন নিয়ে অমর নাটক ‘কবর’, কারাগারেই মঞ্চস্থ করেন বন্দীরা। আর ঠিক ১৯ বছর পরে সেই নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথম মঞ্চে উঠেন আলী যাকের।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম একজন শিকার ৪৬ বছর বয়সী মুনীর চৌধুরী। আজ তার জন্মদিন। এদিনই ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন আলী যাকের।

ভাষার জন্য লড়েছিলেন মুনীর চৌধুরী আর স্বাধীনতা যুদ্ধে আলী যাকের। স্বাধীন দেশ দেখে যেতে পারেননি মুনীর চৌধুরী। তবে বাংলাদেশের মঞ্চনাটক চর্চার শুরুতে তার ‘কবর’ নাটক ছিল অগ্রগণ্য। সেই নাটক মঞ্চস্থ করেছিল আলী যাকের দল ‘আরণ্যক’।

দেশের মঞ্চচর্চায় ভূমিকা রাখার জন্য মুনীর চৌধুরী পদক দিয়ে থাকে থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠী। প্রখ্যাত নাট্যকারের নামে এ পদকে ভূষিত হয়েছিলেন আলী যাকের।

১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন মুনীর চৌধুরী। তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায়। তার বাবা খান বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী ছিলেন ইংরেজ আমলের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেও ১৯৫৫ সালে বাংলা বিভাগে যোগ দেন তিনি।

১৯৬২ সালে মুনীর চৌধুরী বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান, ১৯৮০ সালে পান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’, ‘কবর’, ‘চিঠি’, ‘কেউ কিছু বলতে পারে না’, ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ প্রভৃতি।

অন্যদিকে, ১৯৪৪ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের। তিনি ছিলেন চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয়। তার বাবা মোহাম্মদ তাহের ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। বাবার চাকরির বদলি সূত্রে অল্প বয়সে কুষ্টিয়া ও মাদারীপুরে কাটান আলী যাকের।

তিনি নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আলী যাকের ৮ নং সেক্টরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

১৯৭২ সালে তিনি মঞ্চনাটকের দল আরণ্যকে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে’ যোগদান করেন। ‘কবর’ ছাড়াও তার অভিনীত ‘দেওয়ান গাজির কিসসা’, ‘নুরুল দিনের সারাজীবন’ দেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।

টেলিভিশন নাটকে ‘আজ রবিবার’ ও ‘বহুব্রীহি’ দিয়ে তিনি পরিচিত লাভ করেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলো হচ্ছে-আগামী (১৯৮৬), নদীর নাম মধুমতী (১৯৯৬), লালসালু (২০০১), রাবেয়া (২০০৮)।

আলী যাকের একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক, বঙ্গবন্ধু পদক, মুনির চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদকসহ একাধিক সম্মাননা পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত