বঙ্গোপসাগর পাড়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে রবিবার রাস পূর্ণিমার পূজা ও সোমবার পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। তাই বন বিভাগের কাছ থেকে পাস-পারমিট নিয়ে শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুবলার চরের আলোরকোলে রওনা করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
এর আগে শুক্রবার বিকেল থেকে মোংলাসহ সংলগ্ন সুন্দরবন ও সাগর উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার সনাতন ধর্মের লোকজন তাদের নৌযান নিয়ে জড়ো হন মোংলার পশুর নদীর চিলা এবং জয়মনিতে।
পূর্ব সুন্দরবনের বগি-বলেশ্বর হয়ে ও পশুর নদী হয়ে সরাসরি, এই দুই পথ দিয়ে বন বিভাগের বেঁধে দেয়া করোনা বিধিনিষেধ মেনে আলোরকোলে যেতে হবে পুণ্যার্থীদের।
এ ছাড়া পশ্চিম সুন্দরবন দিয়েও যাওয়ার জন্য রয়েছে আরও তিনটি পথ। এই পাঁচটি পথের বাঁকে বাঁকে থাকবে বন বিভাগের তল্লাশি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই পথ ব্যতিরেকে অন্য পথে চোরাইভাবে কেউ যাওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বন বিভাগ।
ঐতিহ্যবাহী রাস মেলা, পূর্ণিমার তিথিতেই হয়ে থাকে। প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের শেষে বা অগ্রহায়ণের প্রথম দিকের ভরা পূর্ণিমার তিথিতে এ রাস পূজা ও স্নান উদযাপিত হয়ে আসছে।
সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীরা এ সময় পূর্ণিমার জোয়ারের লোনা পানিতে স্নান করে তাদের পাপ মোচন হবে এমন বিশ্বাস নিয়ে রাস পূজায় যোগ দিয়ে থাকেন।
উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার সুন্দরবনের দুবলার চরে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব বা মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। মেলা কিংবা উৎসব ব্যতিরেকে সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীদের এবার শুধু রাস পূর্ণিমার পূজা ও পুণ্যস্নানে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে বন বিভাগ।
এই সময়ে দুবলার চরে যেতে পারবে না কোনো পর্যটক ও সনাতন ধর্মের লোকজনও ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের মানুষ।
এর আগে ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে রাস পূজা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষে কোনো মেলা বা উৎসব হয়নি।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার শর্ত সাপেক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা ও পুণ্যস্নানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস পূজা ও ৩০ নভেম্বর সকালে চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে রাস পূজা শেষ হবে।
২৮ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে পূজারিরা সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোলের উদ্দেশ্যে ট্রলার ও নৌকা নিয়ে রওনা দেবেন।
তিনি আরও বলেন, এর আগে ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সেবারও রাস পূজা ও পুণ্যস্নান ছাড়া রাস উৎসব কিংবা কোনো মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।
