রাজধানীর হাজারীবাগে স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় হাজির হয়েছেন এক স্বামী। তার নাম ইউসুফ রানা। পারিবারিক কলহের জেরে রোকসানা আক্তার ময়নাকে (২৮) লোহা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন তিনি।
বুধবার রাতে হাজারীবাগের রায়েরবাজার হাইস্কুলের পেছনের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ইউসুফ রানা নিজেই থানায় গিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। পরে ময়নার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
বৃহস্পতিবার নিহত ময়নার ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জের ধরেই বুধবার সন্ধ্যার দিকে লোহার বস্তু দিয়ে স্ত্রী ময়নার মাথায় আঘাত করেন স্বামী ইউসুফ। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মৃতদেহ বাসার ভেতরে রেখে দরজায় তালা লাগিয়ে দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে যান ইউসুফ। এক বছর এবং দুই বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে ময়নার। কিছুক্ষণ পরপরই তারা মাকে খুঁজতে শুকু করে। ছোট্ট এই শিশুরা জানে না, তাদের মা আর পৃথিবীতে নেই।
হাজরীবাগ থানার ওসি সাজেদুর রহমান সাজিদ জানান, ঘটনার পর ইউসুফ রানা তার দুই সন্তানকে নিয়ে তার মায়ের বাসায় যান। আমরা প্রথমে রানার ভাইকে আটক করি। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে এক বছর বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে থানার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল রানা। এ সময় আমরা তাকে গ্রেপ্তার করি। গ্রেপ্তারের পর রানা পুলিশকে জানায়, আমি আত্মসমর্পণের জন্যই থানায় আসছিলাম।
হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহত ময়নার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বারইনগর গ্রামে। এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে স্বামী ইউসুফ রানার সঙ্গে পূর্ব রায়েরবাজার হাই স্কুলের পিছনে আনোয়ার খানের বাড়িতে থাকতেন। ময়না গৃহিণী ছিলেন। ইউসুফ ফুসকা বিক্রি করে। দীর্ঘদিন ধরে ইউসুফ ও ময়নার মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায়ও তাদের কথা কাটাকাটি হয়।
