সৌদি-ইসরায়েলের মধ্যে আচমকা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৫৪ পিএম

বাহরাইন সিকিউরিটি সামিটে আচমকা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়ল সৌদি আরব ও ইসরায়েল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্কে কিছুটা ছন্দপতন ঘটল এ ঘটনায়।

ডয়চে ভেলে জানায়, সৌদি রাজপরিবারের প্রভাবশালী সদস্য ও কূটনীতিক প্রিন্স তুর্কি বিন ফয়সাল আল সৌদ একেবারে চাঁচাছোলা ভাষায় ইসরায়েলকে আক্রমণ করেন।

তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ স্বাধীন ফিলিস্তিন না হচ্ছে, ততক্ষণ ইসরায়েল যেন আরব দুনিয়ার আর কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন না করে।’

সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা সাবেক এই ডিরেক্টর জেনারেল যখন এই কথা বলছেন, তখন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সেখানে ছিলেন।

সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করে আরব আমিরাত ও বাহরাইন। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি রাজপুত্রের আক্রমণের মুখে পড়ে কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়েন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গবি আসকেনাজি।

মানামা ডায়ালগ নামে বাহরাইনের ওই শীর্ষ বৈঠক রবিবার শেষ হয়। দুইদিন ব্যাপী এ সামিটের উদ্বোধন করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। 

সেখানে প্রিন্স তুর্কি নিজের বক্তব্য বলেন, ‘ইসরায়েল নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের বাস্তব ছবিটা হলো, তারা একটি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অধীনে আছে। ইসরায়েল তুচ্ছাতিতুচ্ছ কারণ দেখিয়ে ফিলিস্তিনিদের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে অত্যাচার করছে। ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ কেউই ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। ইসরায়েল ইচ্ছেমতো ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ধ্বংস করছে, যাকে খুশি মেরে ফেলেছে।’

তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, ‘ইসরায়েলের হাতে পরমাণু অস্ত্র আছে। আর তারা ও তাদের পেটোয়া মিডিয়া সমানে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে রক্তপিপাসু হত্যাকারী আছে, যারা সৌদির অস্তিত্বকেই মুছে ফেলতে চায়। তারপরেও ইসরায়েল প্রচার করে যে, তারা সৌদির বন্ধু হতে চায়।’

তার ভাষ্য, ‘সমস্যার সমাধান একমাত্র তখনই হতে পারে, যখন ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে অধিকৃত ভূখণ্ড ফিলিস্তিনকে ফিরিয়ে দেয় এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনকে মেনে নেয়। তা হলে আরব দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব হতে পারে।’

এরপরেই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সৌদি প্রতিনিধির মন্তব্যে তিনি ক্ষুব্ধ। মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তন আসছে। সৌদির প্রতিনিধির কথায় তার ছাপ নেই।

আসকোনাজির ভাষ্য, ‘শান্তিচুক্তি না হওয়ার জন্য ফিলিস্তিন দায়ী। বিকল্প দুইটি। ফিলিস্তিনকে সমস্যার সমাধান মেনে নিতে হবে, না হলে এ রকম দোষারোপ চালিয়ে যেতে হবে।’

দুই দেশের প্রতিনিধির মধ্যে যখন এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছে, তখন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ আল-জায়ানিও মঞ্চে ছিলেন। তিনি অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছেন।

আল-জায়ানি বলেন, ‘শান্তির পথ সহজ নয়। অনেক বাধা আসে। অনেক উপর-নিচ হয়। কিন্তু শান্তির পথে থেকেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

এদিকে দুই সপ্তাহ আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে গোপন বৈঠক করতে অনানুষ্ঠানিক সফরে দেশটিতে উড়ে গিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেখানে তাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

যদিও গোপন সে বৈঠকের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি, উল্টো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত