প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার পরে হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৩৮ পিএম

মাদারীপুর শহরের পাঠককান্দি এলাকায় পরকীয়া প্রেমের দ্বন্দ্বে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা মামলার রায়ে বুধবার দুপুরে মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা রফিকুল ইসলাম নামে এক যুবককে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। আসামি রফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতেই এই আদেশ দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ইতালিপ্রবাসী রুহুল আমিন সাদ্দামের স্ত্রী রুমা আক্তার (২৬) মাদারীপুর শহরের পাঠককান্দি এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্বামী বিদেশে থাকায় রুমার সঙ্গে সদর উপজেলার শিরখাড়া গ্রামের পান্নু হাওলাদারের ছেলে রফিকুল ইসলামের (৩২) প্রেমের সম্পর্ক হয়। এই সম্পর্কের জের ধরে একাধিকবার তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়।

২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রাতে রফিকুল রুমার ফ্ল্যাটে যায়। এ সময় রুমা বিয়ের জন্য রফিকুলকে চাপ প্রয়োগ করে। রাত ১১টার দিকে রফিকুল কফির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রুমাকে দেয়। রুমা ওই কফি পান করে অচেতন হয়ে পড়লে রফিকুল রুমার হাত-পা বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পরের দিন সদর থানায় নিহত রুমার মা হেনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে জানতে পারে, রুমার সঙ্গে রফিকুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হতো। সেই সূত্র ধরে রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে জবানবন্দি দেয়। পুলিশ ২০১৮ সালে ২ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এই ঘটনায় দীর্ঘ দুই বছর পরে বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রফিকুলকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

এই রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করে নিহতের মা মামলার বাদী হেনা বেগম বলেন, আমরা এই রায়ে খুশি। আমরা চাই দ্রুত রায় কার্যকর হোক।

মাদারীপুর জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান সিং জানান, মোবাইল ফোনে পরিচয়ের পরে রুমার সঙ্গে রফিকুলের পরকীয়ার সম্পর্ক হয়। এ ঘটনা কেউ যাতে না জানে, সে জন্য রফিকুল রুমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পরে রুমাকে শ্বাসরোধ রোধে হত্যা করে রফিকুল। এই মামলায় ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। মৃত্যুদণ্ড সাজা প্রদান করায় এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ খুশি। দ্রুত এই রায় কার্যকরে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিবে এটাই সবার আশা। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত