গোটা ইউরোপেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, পোল্যান্ড ও জার্মানিসহ অনেক দেশে বা শহরে ফের আরোপ হয়েছে কড়াকড়ি। কোথাও লকডাউন, কোথাও কারফিউর কারণে নিষেধাজ্ঞায় পড়ছেন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটির বাসিন্দারা।
শীতের মাসগুলোতে করোনা সংক্রমণ বাড়বে, এমন পূর্বাভাস সত্ত্বেও ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় একের পর এক দেশে লকডাউন ঘোষণা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বড়দিন ও নববর্ষে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করার বিকল্প নেই।
গত কয়েক দিন ধরে বিশ্বজুড়ে যত নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে তার প্রায় ৩০ শতাংশই হচ্ছে ইউরোপের দেশগুলোতে। তবে সেখানে মৃত্যুর হার আরও ভয়াবহ। গত এক সপ্তাহে বিশ্বে যত লোক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তার অর্ধেকই ইউরোপের।
গত মঙ্গলবার রাত থেকেই প্যারিসসহ দেশের আটটি শহরে নতুন করে করোনা কারফিউ জারি করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গতকাল বুধবার একটি টেলিভিশন বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, আগামী চার সপ্তাহ রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এ কারফিউ জারি থাকবে। লল্ডন ও ওয়েলসে গতকাল থেকে শুরু হয় নতুন লকডাউন। মঙ্গলবার রাত থেকেই শহরগুলোর রাস্তায় নেমেছে পুলিশ। বাড়ির বাইরে কোথায়ও জড়ো হওয়া বা অনুষ্ঠান করার বিষয়ে অন্যবারের তুলনায় বেশ কড়াকড়ি অবস্থানে পুলিশ। এ বছরে আর সেখানকার লকডাউন শিথিল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
জার্মানিতেও একই অবস্থা। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলও নতুন নিয়মের কথা ঘোষণা করেছেন। স্কুল ও প্রয়োজনীয় নয় এমন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিয়ে কঠোর লকডাউন পর্বে প্রবেশ করেছে জার্মানি। দেশটিতে এসব বিধিনিষেধ ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে। বড়দিনের সময় এ বিধিনিষেধ সামান্য শিথিল থাকবে; সে সময় একটি পরিবার সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে আমন্ত্রণ জানাতে পারবে।
নেদারল্যান্ডসেও ক্যাফে, বার এবং রেস্তোরাঁর ওপর নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। স্পেনের কাতালোনিয়া অঞ্চলে ১৫ দিনের জন্য বার, রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চেক রিপাবলিকেও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
তবে আশার কথা হচ্ছে, বড়দিনের আগেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থা (এমা) জানিয়েছে, ২১ ডিসেম্বর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য দেশে বায়োএনটেক ও ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু হবে।
