ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র জিসান হাবিব হত্যায় জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই চক্রের সদস্যরা সবাই ভাসমান ছিনতাইকারী। তারা উত্তরা এবং টঙ্গী এলাকায় ছিনতাইয়ের কাজে সক্রিয়। চক্রের সদস্যরা গভীর রাতে মাদক সেবন করে মিশনে নামে। জিসান হত্যার আগেও তারা দেশীয় মদ এবং বিয়ার পান করে।
জিসান হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুরো চক্রকে শনাক্ত করে পুলিশের উত্তরা ডিভিশন। গত শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুরের টঙ্গী এবং নরসিংদীর রায়পুরা থেকে চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার উত্তরা পূর্ব থানায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ।
উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় উত্তরা এবং টঙ্গী এলাকা থেকে চক্রের সদস্য সুন্দরী সুমন ও স্বপনকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে মূল অভিযুক্ত মো. বিপ্লবের টঙ্গীর বাসা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। বিপ্লব ও কবির নামে দুজন ছিনতাইকারী জিসানকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেছিল বলেও জানায় তারা।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর রায়পুরার বাঘাইকান্দী চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত মো. বিপ্লব ও তৈয়ব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর ব্যাপারী, তানভীর রহমান নেহাল, জিহাদ, নূরুল ইসলাম রাব্বি ও মো. রাকিবকে ধরা হয়। তবে হত্যাকারী কবির এবং চক্রের অন্যতম সদস্য নাতি সোহাগ এখনো পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উপকমিশনার জানান, জিসান নোয়াখালী সোনাইমুড়ী খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। গত ২৮ নভেম্বর নোয়াখালী থেকে ধামরাইয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জিসান এক আত্মীয়কে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন। পরে রুহুল আমিন নামের এক আত্মীয়ের সঙ্গে ক্ল্যাসিক পরিবহনের একটি বাসে করে আশুলিয়ার নবীনগর ফিরছিলেন। বাসটি আব্দুল্লাহপুর এলাকায় এলে জানালা দিয়ে এক ছিনতাইকারী জিসানের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। জিসান বাস থেকে নেমে দৌড়ে ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলেন। এ সময় রুহুলও বাস থেকে নেমে সেখানে যান। তারা দুজন ছিনতাইকারীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে গেলে পেছন থেকে আরও দুজন ছিনতাইকারী এসে জিসান ও রুহুলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। তাদের আহত অবস্থায় ফেলে রেখে ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
পরে আহত জিসান ও রুহুলকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা হয়।
এই চক্রের কৌশল সম্পর্কে উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, মিশনে নামার পর দলের একটি গ্রুপ বিভিন্ন স্থানে পাহারা দেয়। কোন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আশপাশে আছে কিনা তারা সেটি দেখভাল করে। গ্রুপের কোন সদস্য ধরা পড়লে ৩/৪ জন সদস্য মুরুব্বি সেজে ঘটনাস্থলে যায়। পরবর্তীতে কি হয়েছে, কি হয়েছে ভাই ইত্যাদি কথা বলে আটক ছিনতাইকারীদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। জিসান হত্যার আগে চক্রের সদস্যরা দেশীয় মদ এবং বিয়ার পান করে। জিসানের মোবাইল ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায়। তখন তাদের সঙ্গে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে জিসান ও তার আত্মীয় রুহুল আমিনসহ কয়েকজনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
