কুষ্টিয়ায় বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর

যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৪৯ এএম

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের (বাঘা যতীন) ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিসকে (৩৫) গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে কুমারখালী থানায় হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গতকাল শনিবার তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে আনিসের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাস্কর্য ভাঙচুরে জড়িত অভিযোগে তার দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বাঘা যতীন ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য যুবলীগ নেতা আনিসের সঙ্গে কলেজটির পরিচালনা পর্ষদ ও অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের ধরে ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আনিসের দুই সহযোগী হলেন কয়া গ্রামের হৃদয় আহমেদ (২০) এবং কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়া মণ্ডলপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে সবুজ হোসেন (২০)। গ্রেপ্তার তিনজনকে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল হাসান। পরে আদালত আজ রবিবার রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করে গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে বাঘা যতীন ডিগ্রি কলেজের সামনে স্থাপিত বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। গত ৪ ডিসেম্বর রাতে কুষ্টিয়া শহরে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের রেশ কাটতে না কাটতেই বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ অবস্থায় অপরাধীদের ধরতে মাঠে নামে কুমারখালী থানা পুলিশ। তারা গত শুক্রবার সকালে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিসকে হেফাজতে নেয়। একইসঙ্গে বাঘা যতীন ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিজামুল হক চুন্নু, অধ্যক্ষ হারুনুর রশীদ ও নৈশপ্রহরী খলিলুর রহমানকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে ওই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশীদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় মামলা করেন। ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় বাচ্চু নামে আরও একজন জড়িত আছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিষয়ে জানাতে গতকাল দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ লাইনসের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যেটা উঠে এসেছে তা হলো কলেজ কমিটির সভাপতির সঙ্গে কমিটিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এ ঘটনাটা ঘটিয়েছে তারা। পুলিশ তদন্তে নেমে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজনকে চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আর বাকি যারা আছে তাদের খুব দ্রুতই আমরা গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।’

ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ : বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে কুষ্টিয়ায়। গতকাল বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের থানা মোড়ের বকচত্বরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জাসদের সভাপতি হাজি গোলাম মহসিন। জাসদের এই কর্মসূচিতে অন্যান্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত