শিশু সামিউল হত্যায় মাসহ দুজনকে মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৪৯ এএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় শিশু খন্দকার সামিউল আজিম ওয়াফিকে হত্যার ঘটনায় তার মা আয়েশা হুমায়রা এশা ও তার প্রেমিক শামসুজ্জামান বাক্কুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে জামিন নিয়ে পলাতক থাকা ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আলোচিত এ মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘এশা ও বাক্কু তিন বছর ধরে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন। সামিউল ছিল এশার একমাত্র সন্তান। মায়ের ওই সম্পর্কের বিষয়ে সে জানত। সে কারণে তার সন্তানের মুখ চিরতরে বন্ধ করতে বাক্কুকে প্রলুব্ধ করেন এশা। অত্যন্ত ঠা-া মাথায় সামিউলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। আসামিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি।’

উল্লেখ্য, মা এশার পরকীয়ার জেরে ২০১০ সালের ২৩ জুন রাতে আদাবরে নিজেদের বাসায় খুন হয় পাঁচ বছরের শিশু সামিউল। নবোদয় হাউজিংয়ের গ্রিনউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্লে-গ্রুপের ছাত্র ছিল সে। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এশা ও বাক্কুর অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় সামিউলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।  এরপর লাশ বস্তায় ভরে আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ে সামিউলদের বাসার পাশে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় এশা এবং তার প্রেমিক বাক্কুকে আসামি করে আদাবর থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন সামিউলের বাবা কে আর আজম। গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন দুই আসামি। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর ওই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত