রবীন্দ্রসংগীত শুনতে সাত দিনের ছুটি চান অমিত শাহ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ পিএম

বিজেপির রাজনীতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখন গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর রবীন্দ্রপ্রীতি ভীষণভাবে চোখে পড়ার মতোই!

সম্প্রতি অন্যরকম এক ইচ্ছার কথা জানালেন শাহ। ছুটি পেলে সাত দিনের জন্য শান্তিনিকেতনে এসে রবীন্দ্রসংগীত শুনে কাটাতে চান তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, রবিবার এক দিনের বোলপুর ও শান্তিনিকেতন সফরে এসেছিলেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশ্বভারতীতে গিয়ে নিজের এই ইচ্ছের কথা জানান তিনি। রোড-শোর আগে ঘণ্টা দু-এক শান্তিনিকেতনে কাটান তিনি। বাউলের বাড়িতে সারেন মধ্যাহ্নভোজ।

এ দিন সকালে শ্রীনিকেতনের হেলিপ্যাড থেকে কনভয়ে রবীন্দ্রভবনের সামনে পৌঁছান অমিত শাহ। ‘উদয়ন’ গৃহে রবীন্দ্রনাথের বসার আসন ও শয্যায় পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে রবীন্দ্রভবন চত্বর ঘুরে দেখেন। তার পরে উপাসনা মন্দির হয়ে সংগীতভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে তাকে নাচে-গানে স্বাগত জানান শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ ভবন ছিল তার পরের গন্তব্য।

বাংলাদেশ ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অমিত শাহ বলেন, “আজ অত্যন্ত সৌভাগ্যের দিন। বিশ্বভারতীতে এসে সেই মহামানবকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পেলাম, যিনি গোটা বিশ্বে ভারতীয় জ্ঞান, দর্শন, কলা, সাহিত্যকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্যের সামঞ্জস্য স্থাপনের কাজ করেছিলেন শান্তিনিকেতনে। প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষে আবারও ভারতীয় ভাবধারাকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।”

বিশ্বভারতীর এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ভবনে শাহ বলেছেন, তিনি ঈশ্বরের কাছে চাইবেন, যেন সাত দিন ছুটি পাওয়া যায়। তা হলে বিশ্বভারতীর মনোরম পরিবেশে এসে রবীন্দ্রসংগীত উপভোগ করবেন।

এ সময় যাত্রাপথ-সহ গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। সব অনুষ্ঠানেই সাধারণের প্রবেশ ছিল নিয়ন্ত্রিত। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ যৌথ নজরদারি চালায়। শাহর সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভের সম্ভাবনা থাকলেও তেমন দৃশ্য চোখে পড়েনি।

এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে শাল ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে অমিত শাহর হাতে।

বিশ্বভারতীর অনুষ্ঠান সেরেই মধ্যাহ্নভোজের জন্য চলে যান বাসুদেব দাস বাউলের বাড়িতে। শাঁখ বাজিয়ে, উলু দিয়ে শাহকে বরণ করে নেন পরিবারের সদস্যরা। উত্তরীয় পরিয়ে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যান বাসুদেব। বাড়িতে থাকা শিবমন্দিরেও পুজো দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাসুদেবকে পাশে বসিয়েই মধ্যাহ্নভোজন সারেন শাহ। মাটির থালা, বাটি, গ্লাসে কলার পাতায় সরু চালের ভাত, বেগুন ভাজা, পটল ভাজা, পোস্তর বড়া, মুগের ডাল, আলু পোস্ত, পালং শাক, চাটনি দিয়ে দুপুরের খাওয়া সারেন শাহ-সহ উপস্থিত বিজেপি নেতারা। শেষ পাতে ছিল গোবিন্দভোগ চালের পায়েস ও নলেন গুড়ের রসগোল্লা।

এ দিকে কিছুদিন আগে রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সংগীতে বদল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে দ্রুত সাড়া পেয়ে টুইটারে আনন্দ প্রকাশ করেন বিজেপির সংসদ সদস্য তথা অন্যতম নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত