ঢাকার কেরানীগঞ্জের অলি-গলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ। আর এসব গ্যারেজের অধিকাংশতেই বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাতের বেলা মিটার টেম্পারিং করে বিদ্যুৎ চুরি করা হয়। আর এ কাজে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীরাই জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হলেও পকেট ভরছে কিছু লাইনম্যান ও রিডারম্যানের। অনেক গ্যারেজ থেকে মাসোহারাও পাচ্ছে তারা। এর বিনিময়ে মিলছে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ।
চলতি মাসে শুভাঢ্যা উত্তর পাড়া এলাকায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযানে যায় পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তারা। অভিযানে টেম্পারিংয়ের দায়ে জাভেদ নামে স্থানীয় একজনের অটোরিকশার গ্যারেজের তিনটি মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্যারেজের আশপাশের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে জাভেদের তিনটি মিটারের প্রত্যেকটিতে মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল আসত। পরে পল্লীবিদ্যুতের রিডার মো. ইকবালের মাধ্যমে তার মিটারগুলো টেম্পারিং করে সে। এতে তার বিল কমে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকার নিচে নেমে আসে। বিনিময়ে ইকবালকে এককালীন ৭০ হাজার টাকা ও প্রতি মাসে কিছু মাসোহারা দেয় জাভেদ। একপর্যায়ে জাভেদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিনিময়ে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করে দেয় ইকবাল।
গ্যারেজ মালিক জাভেদ বলেন, ‘মিটার টেম্পারিংয়ের কারণে পল্লীবিদ্যুৎ আমার গ্যারেজের লাইন বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা ধার্য করলে আমি ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ইকবাল আমাকে ৪৩ হাজার টাকা দেয়। এর সঙ্গে আরও ৭ হাজার টাকা মিলিয়ে আমি ৫০ হাজার টাকা অফিসে প্রদান করি।’ এ বিষয়ে জানতে ইকবালের মোবাইল ফোনে কল করা হলে জাভেদের সঙ্গে কথা বলেন বলে লাইন কেটে দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আর ফোন রিসিভ করেননি। শুভাঢ্যা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-৪ জোনাল অফিসের ডিজিএম আবু তৈয়ব মো. জহিরুল ইসলাম জানান, গ্রাহক মিটার টেম্পারিং করেছিল। পরে জরিমানা দিয়ে ফের সংযোগ নিয়েছে। ইকবালের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে বদলি করে দেওয়া হবে।
