গল্পে বৈচিত্র্য আনতে তৃতীয় লিঙ্গকে চরিত্র করে শুরু হয়েছিল ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল ‘ফিরকি’। কিন্তু বছর শেষে পুরো টিমের মন খারাপ। কারণ হুট করেই ধারাবাহিকের শুটিং শেষ হচ্ছে। শেষ পর্ব প্রচার হবে ২ জানুয়ারি।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, গত সপ্তাহেও জি বাংলার এই সিরিয়ালের রেটিং ছিল ৬.৫। সেই জায়গা থেকে আচমকা শুটিং বন্ধের নির্দেশ আসতেই হতাশ হয়ে পড়েছেন ‘লক্ষ্মী’ ওরফে আর্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘রানি’ ওরফে সুজি ভৌমিক। বিষণ্ণ প্রযোজক স্নিগ্ধা বসুও।
কেন মাত্র ১ বছরের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ এল? তিনজনেরই বক্তব্য, সমাজে নাকি এখনো তৃতীয় লিঙ্গ উপেক্ষিত। ফলে তাদের জীবন, গল্প নিতে পারছে না দর্শক। তাই চ্যানেল কর্তৃপক্ষই নাকি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
‘ফিরকি’ ধারাবাহিক যে দুই চরিত্রকে নিয়ে শুরু তাদেরই একজন ‘লক্ষ্মী’। ফিরকির মা। ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উঠতেই আফসোস ঝরে পড়ল সেই ‘লক্ষ্মী’ ওরফে আর্যার গলায়, ‘‘তৃতীয় লিঙ্গের উন্নতি নাকি নিতে পারছেন না কেউ। তাই ভালো রেটিং থাকা সত্ত্বেও বন্ধের নির্দেশ এসেছে। এই ধারাবাহিক আমাকে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গ না হয়েও ওই ভূমিকায় অভিনয় করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আমি সেটা গ্রহণও করেছিলাম। ‘লক্ষ্মী’ চরিত্রের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলাম। সবকিছুই যেন থমকে গেল। আমাদের মতোই মন খারাপ প্রযোজক স্নিগ্ধা বসুরও।’’
এও জানান, ফিরকির দাম্পত্য জীবন যখন দেখানো হচ্ছিল তখন রেটিং পড়ে যায়। লক্ষ্মী, রানিসহ তৃতীয় লিঙ্গদের গল্প ফিরিয়ে নিয়ে আসতেই ফের বাড়তে থাকে রেটিং। তার পরেও এই সিদ্ধান্ত শুনে সবাই হতবাক।
একই কথার সুর ‘রানি’ সুজি ভৌমিকের কথাতেও, ‘‘সবার আগে ধন্যবাদ দেব প্রযোজক সংস্থা অ্যাক্রোপলিস এবং প্রযোজক স্নিগ্ধা বসুকে। উনি আমাদের নিয়ে ধারাবাহিক বানানোর সাহস দেখিয়েছিলেন। কপাল আমাদেরই খারাপ। সমাজ এখনো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের স্বীকৃতি দিতে রাজি নয়। ফলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ‘ফিরকি’। সমাজে জায়গা করে নেওয়ার জন্য আমাদের আরও লড়াই করতে হবে।’’
সুজির দাবি, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ সমীক্ষা করে দেখেছে তৃতীয় লিঙ্গদের পর্দাতে আনলেই নাকি চ্যানেল ঘুরিয়ে দিচ্ছে দর্শক। ফলে, বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
প্রযোজক স্নিগ্ধার ভাষ্য, ‘‘দর্শকেরা নতুনত্ব জিনিস দেখানোর কথা বলেন বটে। কিন্তু বাস্তবে নিতে পারেন না। তারই ফলাফল ফিরকি।’’ তিনি আরও জানালেন, শহুরে দর্শক ভালোভাবেই নিয়েছিল এই ব্যতিক্রমী ধারাবাহিক। কিন্তু আধা শহুরে বা গ্রামের দর্শকেরা ভালো চোখে দেখছিলেন না তৃতীয় লিঙ্গের জীবনকথা।
