২০০তম দিনে ইউনিভার্সাল এমিটির ফুড-ফর-গুড প্রকল্প

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনাকালে যখন পরিবারের মানুষগুলো ভয়ে নিজেকে করেছে গৃহবন্দী। তখন মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইউনিভার্সাল এমিটির মানবিক কর্মীরা মানুষের জন্য কাজ করে গিয়েছেন।  

খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর কষ্ট ঘরের বাহির করেছে একদল মানবিক কর্মীকে। সারাদেশে যখন লকডাউন চলছে তখনও মানবিক হতে পিছপা হয়নি তারা। বিবেক তাদের কাছে মৃত্যু ভয়ের চেয়ে বড় করে তুলেছে। তাই তো পিপিই পরে খাবার নিয়ে ছুটে গিয়েছে ঢাকার ফুটপাতে অপেক্ষমান অনাহারী মানুষগুলোর কাছে।  

চলতি বছরের ৭ জুন থেকে সংগঠনটি ফুড ফর গুড প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু করে ঢাকার ছিন্নমূল মানুষের কাছে একবেলার আহার পৌঁছে দেওয়ার কাজ। দেখতে দেখতে এ প্রকল্প ২০০ দিন অতিক্রম করেছে বুধবার প্রতিদিন মিরপুরের প্রায় অর্ধশতাধিক ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষ অপেক্ষায় থাকে কখন এসে তাদের হাতে খাবার তুলে দেয় ইউনিভার্সাল এমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরা। ইতিমধ্যে এই প্রকল্প ঢাকা ছাড়াও কাজ করেছে খুলনা ও কুড়িগ্রামে।

১৬ ডিসেম্বর এক ব্যতিক্রমী বিজয় উৎসব উদযাপন করে ইউনিভার্সাল এমিটি। নিজ হাতে রান্না করে ১২টা ০১ মিনিটে খুলনা শহরের শতাধিক গৃহহীন অসহায় মানুষদের হাতে তুলে দিয়েছে খাবারের প্যাকেট আর একটি করে কম্বল দিয়ে জড়িয়ে নিয়েছে ভালোবাসার উষ্ণতায়। 

২০১৫ সালে স্বেচ্ছাসেবী এই মানবিক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেহেদি হাসানের হাত ধরে এবং তার হাতে হাত মিলিয়ে এই মানবিক আন্দোলনকে বেগবান  করেছে একদল মানবিক যোদ্ধা। 

উইন্টারকেয়ার প্রকল্পের আওতায় এ বছর উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটে প্রায় ২,০০০ কম্বল; খুলনার পাইকগাছা ও কয়রায় প্রায় ১০০০ কম্বল এবং সাতক্ষিরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামে ৪০০ কম্বল বিতরণ করা হয়।  

এ ছাড়াও ঢাকায় ছিন্নমূলদের মাঝে গত ১১ ডিসেম্বর কম্বল বিতরণ করে সংগঠনটি। আগামী সপ্তাহে গাইবান্ধা আর নীলফামারী জেলার কয়েকটি স্থানে আরো প্রায় হাজারখানেক কম্বল বিতরণ করার কথা রয়েছে। 

লাইফলাইন প্রকল্পের আওতায় ৩০টি নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সুপেয় ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রায় ১৫০টি পরিবারের। কুড়িগ্রামের শতাধিক পরিবারের আয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছে গরু-ছাগল আর সেলাই মেশিন বিতরণের মধ্য দিয়ে।  

আর এই সব মানবিক কাজ এগিয়ে চলেছে বেশকিছু মহৎপ্রাণ মানুষের আর্থিক সহযোগিতায়।  

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার মতে মানুষ নামের স্বার্থকতা তখনই আসবে যখন মানুষের মাঝে বৈষম্য থাকবে না। থাকবে না কোনো ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ। ছোট ছোট সহযোগীতার সম্মিলিত প্রয়াসে গড়ে উঠবে সত্যিকারের মানবিক পৃথিবী।     

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত