চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে সারা দেশের মতো ঢাকার কেরানীগঞ্জেও হাম-রুবেলা টিকার ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন টিকাকেন্দে ৯ মাস থেকে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে করোনা মোকাবিলায় টিকাকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি পালনের ব্যাপারে অনেকটাই উদাসীন স্বাস্থ্যকর্মীরাও। এতে কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জের আগানগর ও কালিন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রগুলোতে জনসাধারণের উপচেপড়া ভিড়। অধিকাংশের মুখে নেই মাস্ক। ন্যূনতম সামাজিক দূরত্বও মানছেন না কেউ। একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিয়ে লাইনে দাঁড়ানোয় ব্যস্ত সবাই। টিকাকেন্দ্রগুলোতে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ লেখা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা হয়নি। মাস্ক ছাড়া টিকাকেন্দ্রে কেন আসছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে অধিকাংশ অভিভাবকের জবাব ‘মাস্ক আনতে মনে নাই’।
এ প্রসঙ্গে আগানগর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ইনচার্জ ডা. মো. মোতালিব হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রথমে সিরিয়াল করে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে জনগণ আর মানেনি। আমরা চেষ্টা করেছি স্বাস্থ্যবিধি মানতে। কিন্তু কেউ সেটা মানেনি।’
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, ‘আগে এই টিকাদান কর্মসূচি দুই-এক দিনে শেষ করা হতো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় জনসাধারনের যেন ভিড় না হয়, সেজন্য এবারের কর্মসূচি এলাকাভিত্তিক দীর্ঘ সময়ের জন্য করা হয়েছে। মাস্কের কারণে যদি কাউকে টিকা না দিয়ে ফেরত দেওয়া হয়, তাহলে অনেকেই ব্যাপারটা ভিন্নভাবে নেবে। মাস্ক ছাড়া যেন লোকজন টিকা দিতে না আসে সেই বিষয়ে আমরা তাদের আরও উৎসাহিত করব। প্রতিটা মানুষকেই নিজ নিজ স্থান থেকে সচেতন হওয়া উচিত। গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে অচিরেই আলোচনা করা হবে।’
