মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চল এলাকার কৃষকদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত লাঘাটা নদী খননের কাজ দু’বছর ধরে চলছে। বর্তমানে লাঘাটা নদীর খনন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
কাজ শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নদী খনন শুরু হয়। তবে নদী খননের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সভা, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন।
সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়ন এলাকায় খননকাজ দেখতে গেলে কৃষকেরা বলেন, প্রতি বছর ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্নাঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে কমলগঞ্জের পতনঊষার, শমশেরনগর, মুন্সীবাজার ইউনিয়ন এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কৃষকেরা।
তারা বোরো, আউশ, আমন, সবজিখেত হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব। এ থেকে উত্তরণের জন্য লাঘাটা নদী খনন ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। এ দাবিতে তারা নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করেন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে লাঘাটা নদী খননের জন্য জরিপকাজ সম্পন্ন হয়। নানা জটিলতায় খননকাজ কিছুটা বিলম্বে শুরু হয়। দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নদীর উৎসস্থল পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার খননকাজ চলবে। ১১ দশমিক ৮শ’ মিটার ও ১২ দশমিক ৮৩০ মিটার মিলিয়ে ২৪ দশমিক ৬৩০ মিটার খনন কাজ হবে।
কমলগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি দুরুদ আলী ও মৌলভীবাজার কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতা রমজান আলী বলেন, লাঘাটা নদীকে ঘিরে এলাকার মানুষ চাষাবাদ ও মাছ আহরণ করেন। নদীটি রাজনগর উপজেলায় মনু নদে পতিত হওয়ায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার পানি মনু দিয়ে গড়িয়ে যায়।
দীর্ঘদিন ধরে লাঘাটা নদী ভরাটসহ নানা কারণে নদী সংকোচন হয়ে খালে পরিণত হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন হতে দীর্ঘ সময় লাগে। আর জলাবদ্ধতায় ধানিজমি ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকেরা।
লাঘাটায় খনন শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন না হলে আবারও কৃষকদের ক্ষতি বয়ে আনবে। এ জন্য তারা ঠিকাদারদের কাজে সার্বক্ষণিক নজরদারির কথা বলেন।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘গত বছর থেকে সরকারি উদ্যোগে নদীর খনন কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষের উপকারে আসবে। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ জানান, ‘এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে লাঘাটা নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খনন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিজে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি ও নিয়মিত তদারকি করছি।’
