নিরাপত্তা রক্ষার কাজে ব্যবহৃত বাংলাদেশের নামকরা হাউন্ড কুকুর এখন বিলুপ্তপ্রায়। সরাইলের হাতেগোনা কয়েকটি বাড়িতে এই কুকুরের দেখা মেলে।
শিকারের অবিশ্বাস্য দক্ষতা থাকার কারণে সেনাবাহিনী এবং পুলিশে এই কুকুর ‘গার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সাত বছর আগে এদের যোগ হয়েছে র্যাবের ডগ স্কোয়াডে। মালিকের প্রতি নিবেদন চোখ কপালে তোলার মতো।
সরাইলের এই কুকুর নিয়ে কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেসব প্রতিবেদনের সাক্ষাৎকারে প্রজাতিটিকে রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা গেছে। কিন্তু এখনো সেসব বাস্তবায়ন হয়নি।
সোমবার সংবাদ সংস্থা এএফপিতে বাংলাদেশের এই হাউন্ড কুকুর নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। কুকুরের দক্ষতা আর সাহসিকতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ অঞ্চলের ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘১৯৭১ সালে যুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দেয়া এমএজি ওসমানিকে বাঁচিয়েছিল এই কুকুর। তার পোষা দুটি কুকুরের একটি তাকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় একটি বাড়িতে এ জাতের কুকুরের প্রজনন ঘটে। তাদের বাপ-দাদারও পেশা ছিল কুকুর বিক্রি। তবে কুকুর বিক্রি করে রোজগার আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে বললেন বাড়ির লোকজন। বছর দুই আগে তপন দাসের বাড়িতে ছিল প্রায় ১৫/১৬টি কুকুর। এখন আরও কয়েকটি কমেছে।
কথিত আছে, বহুকাল আগে জমিদারের এক দেওয়ান হাতি নিয়ে কলকাতা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি কুকুর দেখে খুব ভালো লেগে যায়। তিনি কুকুরটিকে নিতে আগ্রহী হলেন। তবে বাদ সাধলেন কুকুরের মালিক। প্রিয় প্রাণীটি কোনোমতেই হাতছাড়া করবেন না। দেওয়ানও হিংস্র কুকুরটি নেবেনই। অনেক কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনা, বাদ-বিবাদের পর হাতির বিনিময়ে কুকুর নিয়ে ফিরলেন জমিদারের দেওয়ান। সেটিই শ্বাপদসংকুল জঙ্গলে হবে তার একমাত্র রক্ষাকর্তা, শিকারের সঙ্গী। সরাইলের জমিদার দেওয়ানের হাত ধরে এভাবেই গ্রেহাউন্ড চলে আসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
দাস বাড়ির কুকুরের একেক নাম- টাইগার, মধু, পপি, কালী, লালি, টমি, কালা। নাম ধরে ডাকার সঙ্গে সঙ্গে হাজির হয় কুকুরগুলো। নাম রাখা হয় জন্মের কিছুদিন পর দেহের বর্ণ বা স্বভাব অনুযায়ী। গ্রামাঞ্চলে শিয়াল, বনবিড়াল, বাগডাশা শিকারে এরা পারদর্শী। শহুরে মানুষের কাছে পালিত হয় শখে।
এ কুকুর দেখতে অনেকটা শিয়ালের মতো। হালকা-পাতলা গড়ন। আকারে লম্বাটে। স্বভাবে বাঘের মতো এবং চোখেমুখে শিকারের নেশা।
এ ছাড়া এ জাতের কুকুরের কান ও লেজ লম্বা হয়। গায়ে ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। নজর তীক্ষ্ণ।
পুরুষ কুকুরের উচ্চতা হয় ২৫-২৮ ইঞ্চি এবং ওজন ২৩-৩৩ কেজি। আর নারী কুকুরের উচ্চতা হয় ২৩-২৬ ইঞ্চি এবং ওজন হয় ১৮-২৮ কেজি।
প্রতি ঘণ্টায় এই কুকুর প্রায় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়াতে পারে। গড়ে ৮-১৪ বছর বাঁচে। রং দুই ধরনের হয়, বাদামি-সাদা ও সাদা-কালো।
